ঢাকা, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
shodagor.com

অবসর

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, মার্চ ৪, ২০২১ ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ  

| sukanto

পিবিএন ডেস্ক:

নাহার বেগম হঠাৎ চোখ মুছে খাটের উপর বসলেন।বয়স হয়েছে তার মাঝে মাঝে পুরনো স্মৃতি মনে করলেই তার চোখে পানি চলে আসে।পরিবারে যখন তিনি বউ হয়ে এসেছিলেন তখন তিনি অনেক ছোট।

হাসি কান্না মান অভিমান রাগ নিয়ে কেটেছে নাহার বেগমের ৭৫ বছর। মানুষের বোঝা উচিত জীবনে যদি কিছু সম্পদ জমাতে হয় তাহলে সেটা তার সৎকর্ম ভালো ব্যবহার, আল্লাহর পথে নিজেকে উৎসর্গ করা এগুলোই।

shodagor.com

অনেকেই সময় না ফুরাতেই এটা বোঝা যায় আর অনেকেই এটা বুঝতে চায় না। নাহার বেগম এইসব ভাবছিলেন তিনি অবসরে এসব ভাবেন।

নাহার বেগম একটা সময়ে নিজের হাতে খেতে পারতেন না কিছুই করতে পারতেন না। তার কাছের মানুষগুলোর উপর তিনি ছিলেন পুরোপুরি নির্ভরশীল।

নাহার বেগম তার ছেলেকে বললেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়,তার নাতনিকে তিনি বললেন সাবধানে ঢাকায় থাকতে।তার বৌমাকে বললেন যেন তার নাতিকে দেখেশুনে রাখে।কিন্তু কেউ ই কিছু শুনল না সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে তিনি বিছানায় একটু শুয়ে পড়লেন।

হঠাৎ তিনি দেখলেন তার কাছের মানুষগুলো কার কথা আলোচনা করছে। তাকে স্মরণ করছে।

“এখন আর তোমার ফোন আসে না। দুশ্চিন্তা করার মানুষ ও নেই।আর হাসি তামাশা ইয়ার্কি করার মানুষও নেই।দাদি মানে তার কাছে আহ্লাদ করা। দাদি মানে একটু বেশি অধিকার আদায় করে নেওয়া।দাদি মানে আমায় এখনই ২০ টাকা দাও।দাদি মানে ভালোবাসার খুনসুটি। তবে শেষ সময়ে দাদি মানে দাদি এর উপর দায়িত্ব। শেষ সময়ে দাদি মানে যেতে দেব না তবুও তাকে যেতে দেওয়া। শেষ সময়ে দাদি মানে তার স্মৃতি মনে করা।শেষ সময়ে দাদি মানে তার জন্য দোয়া করা”।

নাহার বেগম মুচকি হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেলেন তার আসল ঠিকানায়। নাহার বেগম এখন অবসরে। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে তিনি চিরবিদায় নিয়েছেন।

তাসনিম ইসলাম রিতু
শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – pbn.news24@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ