১৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং, রবিবার

অব্যবস্থাপনা আর শুণ্যপদের ছড়াছড়িতে যৌবনের আগেই যৌবনহারা বশেমুরবিপ্রবি

আপডেট: জুলাই ৩, ২০২০

| সুকান্ত কুমার সরকার, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি

সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালীর জন্মভূমির বুকে প্রতিষ্ঠিত,তাঁরই নামে নামাঙ্কিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অথচ সেখানেই উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের মতো গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে নেই স্থায়ী কর্মকর্তা। শুধুমাত্র এই তিন পদই নয়, শূন্য রয়েছে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা, একুশে ফেব্রুয়ারি লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিনের পদও। মাসের পর মাস অস্থায়ী নিয়োগে প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে উপাচার্যের পদে ।

প্রতিষ্ঠার দশ বছর পরেও ৭ টি অনুষদ এবং ৩ টি ইনিস্টিউটের অধীনে প্রায় ১২,০০০ শিক্ষার্থী এমনই ভগ্ন কাঠামোতেই পরিচালিত হচ্ছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) -এর প্রসাশনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। যেন যৌবনের আগেই যৌবনহারা পরিস্থিতি।
উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার; চ্যান্সেলরের নিয়োগ দেবার কথা থাকলেও আজও অজানা কারনে শূন্যই রয়ে গেছে এই পদ গুলি।

এর মধ্যে উপাচার্য পদ থেকে বিগত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের পর প্রায় ৯ মাস যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ী পদের ব্যাপারে নজর নেই যথাযথ কতৃপক্ষের।

এছাড়া রেজিস্ট্রার সহ চারটি অনুষদের ডিনপদে নিয়োগকৃতদের সকলেই আছেন চুক্তিভিত্তিক এবং অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালকও।

তবে এখানেই শেষ নয় বশেমুরবিপ্রবির শূন্যতা, তালিকায় আরোও গভর্নিং বডি বিহীন দুটি ইনস্টিটিউট।বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদনহীন একটি বিভাগ সহ ২৯ টি বিভাগে নেই কোন অধ্যাপক। তিনটি বিভাগ এবং একটি ইনস্টিটিউটের নেই নিজস্ব কোনো শিক্ষক। অতিথী শিক্ষকের মাধ্যমেই চলছে এসকল বিভাগ ও ইনিস্টিউটের শিক্ষা কার্যক্রম।

এসবের বাইরে আবাসন ব্যব্স্থা সহ ঘাটতি রয়েছে ক্লাসরুম, ল্যাবরুমের। শিক্ষার্থীদের মতে, ৩৪ টি বিভাগের মধ্যে অন্তত ২০ টি বিভাগের ক্লাসরুম সংকট রয়েছে এবং ১০ টি বিভাগে রয়েছে পর্যাপ্ত ল্যাব সংকট। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২,০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচটি হলে আবাসন সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ২,০০০ শিক্ষার্থী, যা শতকরা হিসেবে মাত্র ১৬ শতাংশ। তবে এসকল হলেও রিডিং রুম না থাকা, হল লাইব্রেরি না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নিয়েও। আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী উজ্বল মন্ডল বলেন “এটি আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক বিষয় যে, প্রায় ১০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইন গেট, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল এবং স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি, এমনকি নেই কোনো ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র বা ক্যান্টিনও।”

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান এই অবস্থার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা দায়ী করছেন সাবেক উপাচার্যের অপরিকল্পিত এবং স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তকেই। সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করেই একের পর এক নতুন বিভাগ খোলা এবং আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ফলেই এসব সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ পদেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার পর হয়তো এসকল বিষয়ের সমাধান হবে।” এসময় তিনি উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপ-উপাচার্যের প্রয়োজন হয় এবং বর্তমানে আমাদের যে পরিমাণ শিক্ষার্থী রয়েছে তাতে এই পদে নিয়োগ দেয়া হলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো হবে। আর ট্রেজারার থাকলে উপাচার্য এক কেন্দ্রীক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননা এবং সমন্বিত সিদ্ধান্তের ফলে সিদ্ধান্তগুলোও সুদূরপ্রসারী হয়।”