১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং, সোমবার

আফগানিস্তানে বিমান হানা, মৃত ৪৫

আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২০

| পিবিএন ডেস্ক

নিরাপত্তা বাহিনীর বিমান হানায় অন্তত আট জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু। লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে তালেবান।

গোড়ার কথা
১৯৭৮ থেকে ’৯২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে আফগানিস্তানে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ পাশতুন জনজাতির যোদ্ধারা সে সময় রাশিযার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল৷

পরবর্তীকালে তারাই তালেবান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে৷ রাশিয়াকে ঠেকাতে সেই সময় পাকিস্তান এবং অ্যামেরিকা তালেবানকে সাহায্য করে৷

ঘটনার পরে একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে তালেবান। তাতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যে সমস্ত তালেবান জেল থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছিল, এই ঘটনার পর তারা আবার হাতে অস্ত্র তুলে নেবে। তালেবান বিবৃতি অনুযায়ী ঘটনায় ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আফগান সরকারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বুধবারের বিমান হানায় শুধুমাত্র আফগান সেনাই যুক্ত ছিল। মার্কিন বাহিনী এতে অংশ নেয়নি। বস্তুত, আফগানিস্তানে অবস্থিত মার্কিন সেনা সূত্রও জানিয়েছে, বুধবারের ঘটনায় তারা যুক্ত নয়। এ দিকে আফগান সরকার জানিয়েছে, কী ভাবে সাধারণ মানুষের প্রাণ গেল, কতজন নিহত হয়েছেন, এই সমস্ত তথ্য তদন্ত করে দেখা হবে।

দ্রুত সেই রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর অবশ্য দাবি, বিমান হানা নয়, সাধারণ গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে। যা তালেবানরা পেতে রেখেছিল।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে তালেবান নেতৃত্বের সঙ্গে অ্যামেরিকার শান্তি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রায় পাঁচ হাজার তালেবান বন্দিকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয় অ্যামেরিকা। বদলে এক হাজার নিরপত্তা বাহিনীর কর্মী এবং অফিসারকে মুক্তির

দেয় তালেবান। এখনও সেই প্রক্রিয়া চলছে। অ্যামেরিকা এবং আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এখনও পর্যন্ত চার হাজার তালেবানকে মুক্তি দিয়েছে। তালেবান মুক্তি দিয়েছে ৫০০ বন্দিকে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বুধবারের ঘটনায় সেই প্রক্রিয়ায় তাল কাটল।

আফগানিস্তানে স্বাধীন ভাবে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসে শান্তি চুক্তির পরে দেশে মোট ৮৮০টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। যাতে নিহত হয়েছেন এক হাজার ২১৩ জন সাধারণ মানুষ। আহত হয়েছেন এক হাজার ৭৪৪ জন।

তবে বুধবারের ঘটনা এই সমস্ত কিছু ছাপিয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিমান হানা চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।