১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

লাবনী আকতার ঝর্নার সপ্ন ‘দ্যা হ্যালেন্স’

আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২০

| পিবিএন রিপোর্ট

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দ্যা হ্যালেন্স’র উদ্যোক্তা লাবনী আক্তার ঝর্না

আমাদের দেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি স্বল্পোন্নত দেশ। আর জাতি হিসাবেও আমরা উন্নয়নশীল। তাইতো পৃথীবিতে যে কটি দেশে বেকার সমস্যা সবচেয়ে চরমে তারমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। প্রতি বছর অসংখ্য তরুন-তরুনী উচ্চশিক্ষা শেষ করে কর্মসংস্থান না করতে পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। যেখানে কিছু তরুণ-তরুণী নিজেদের ভাগ্য হাতে তুলে নিয়েছে। সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্ঠান্তও স্থাপন করেছেন। ‘উদ্যোক্তা সাতকাহন’ এ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এমনি একজন তরুণীর। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দ্যা হ্যালেন্স’র উদ্যোক্তা লাবনী আক্তার ঝর্না। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এস. এম ফাহাদ

দ্যা হ্যালেন্স এর শুরুটা কিভাবে?

লাবনী: দ্যা হ্যালেন্স নামে আমার একটা অনলাইন শপ আছে। দ্যা হ্যালেন্স এর যাত্রা শুরু হয়েছে গত বছরের শেষ নাগাদ। বিজনেস শুরু করার আগেই ই- কমার্স নিয়ে একটু পড়াশোনা করেছি এবং বিজনেস শুরু করার পরে আমি আমার পেইজের জন্য আমার সিগনেচার প্রোডাক্ট লেডিস হ্যান্ড ব্যাগ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। এইসব ব্যাগ আসতো চায়না থেকে, যা আমি আমার পছন্দের সব দোকান থেকে নিয়ে আসতাম। আলহামদুলিল্লাহ এখান থেকে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। তাছাড়া আমি চেয়েছিলাম আমার পেইজ একটু ভিন্নতা থাকবে সেই জন্য আমি লেডিস হ্যান্ড ব্যাগ এর পাশাপাশি কসমেটিকস, থ্রি-পিস, জুয়েলারি কালেকশন শুরু করি। পেইজে ভিন্নতা থাকার কারণে এটা সবার কাছে একটু আকর্ষণীয় ছিল ব্যাপারটা। যার কারণে ভালো সাড়া পেয়েছি সবসময়ই।

কতদিন হলো?

লাবনী: দ্যা হ্যালেন্স পেজের যাত্রা শুরু হয়েছে ২২ শে নভেম্বর ২০১৯ থেকে। বর্তমানে আমার পেইজে ১০ হাজার সদস্য আছেন। খুব একটা সময় না হলেও আমি সবার কাছে খুব সাড়া পেয়েছি। খুব অল্প সময়ে ভালো পরিচিতি পেয়েছি। যা আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যুগিয়েছে।

কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

লাবনী: আমি আমার কাজ শুধু পেইজে সীমিত রাখেনি। আমি আমার নিজের আইডির টাইমলাইন থেকে প্রোডাক্ট এর পিকচার দিয়ে সবার কাছে রিচ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি সবর্দা। সবাই আমাকে এ ব্যাপারে প্রচুর সাপোর্ট দিয়েছে। যার কারণে আমার পেজের পাশাপাশি আমার ফেসবুক আইডি থেকে ও ভালো সাড়া পেয়ে থাকি। তাই বলব আলহামদুলিল্লাহ সব কিছু মিলিয়ে একটা ভালো টাকার পরিমাণ আসে। ফেইসবুক পেইজের পাশাপাশি আমার একটি ফেসবুক গ্রুপ আছে দ্যা হ্যালেন্স লেডিস হ্যান্ড ব্যাগ এন্ড কসমেটিক্স নামে। পেইজ,গ্রুপ আর নিজের প্রৌফাইল মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালোই সাড়া পাওয়া যায়।

করোনায় কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে?

লাবনী: সম্ভবত করোনা মার্চের শেষের দিকে শুরু হয়েছিল যার কারণে অনেক উৎসবকে সামনে রেখে আগেই প্রোডাক্ট এসেছিল। এই প্রোডাক্ট গুলো বেশিরভাগই জমা হয়ে গিয়েছিলো যা কোনভাবে সেল হয়নি। ঠিক মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এই সময়টায় খুবই বিপদে পড়তে হয়েছে। তবে যেহেতু আমি আমার পেইজে সব সময় একটু ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করেছিলাম তাই আমি বসে থাকেনি আমি আমার পেইজে কিছু সার্জিক্যাল মাস্ক,হ্যান্ড স্যানিটাইজার সেল করা শুরু করি। যার ফলে কিছুটা হলেও আমি পুষিয়ে উঠতে পেরেছি।

দ্যা হ্যালেন্স নিয়ে আগামীর পরিকল্পনা কি?

লাবনী: যেহেতু আমি আমার পেইজে বিভিন্ন রকম প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছি সেহেতু আমার একটা স্বপ্ন হচ্ছে দ্যা হ্যালেন্স কে আমি একটা ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চাই এবং আমার একটা নিজস্ব স্টুডিও থাকবে যেখানে আমার কাস্টমারটা তাদের পছন্দমতো প্রোডাক্টটি পাবেন এবং তারা নিজের চোখে সেটা যাচাই-বাচাই করে নিতে পারবেন।

ই-কমার্স এ আগামীতে কেমন সম্ভাবনা আছে বলে আপনি মনে করেন?

লাবনী: করোনার কারণে ই কমার্স এর ব্যবহার অনেকটা বেড়ে গিয়েছে আমরা জানি। কেননা মানুষ এখন বাইরে যাওয়ার চেয়ে অনলাইনে শপিং করাকে নিরাপদ মনে করে। এই ধারা ভবিষ্যৎতে থাকবে বলে আমি মনে করি। যেকারণে আরো অনেকে ই কমার্স কে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আরো আগ্রহী হবে। যেটা অনেক বড়ো একটা মার্কেটপ্লেস তৈরি করবে।

তরুণ উদ্যোক্তারদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

লাবনী: আমি নিজে উদ্যোক্তা হয়েছি খুব বেশি সময় হয়নি। আমি নিজে এখনো নতুন নতুন সিচুয়েশন দেখছি এবং শিখছি। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বলব তারা যেন হঠাৎ করে কোন বিজনেস শুরু না করে হুটহাট করে কোন পেজ ওপেন না করে দেয়। তার জন্য প্রথমে চিন্তা করে তারা কোন বিষয়ে কাজ করতে চায়। ভবিষ্যতে পরবর্তীতে তাদের কাজটির আউটকাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কেটে মান কি হবে। সবকিছু যাচাই বাছাই করে কাজ করা এবং যে কোনো ডিসিশন নেওয়ার আগে একটু চিন্তা করা। এটাই আমার পরামর্শ থাকবে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য।

চাঁদ ও মঙ্গলে পরমাণু কেন্দ্র তৈরি করবে আমেরিকা!