ঢাকা, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
shodagor.com

কবি নজরুল কলেজের ছাত্রাবাসে অবৈধভাবে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান

প্রকাশিত: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২০ ৬:১৬ অপরাহ্ণ  

| ডেস্ক ইডিটর, রনি

কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি:
একাদিক বার নোটিশ দেওয়ার পরেও রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের একমাত্র ছাত্র হল “শহীদ শামসুল আলম ছাত্রাবাস” থেকে সাধারণ শিক্ষর্থীদের বের করতে সক্ষম হলেও অবৈধভাবে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সরাতে ব্যর্থ কলেজ প্রশাসন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজের ছাত্রাবাসে এখনো ছাত্রলীগ নেতাসহ বহিরাগতরা অবস্থান করে আসছে।

কলেজের সাবেক এক শিক্ষার্থী শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সিলেটের এমসি কলেজের মতো যদি আমাদের কলেজেও এমন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটে তার দায় দায়িত্ব কে নিবে।

করোনা সংক্রমণের কারণে ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রায় সাত মাস ধরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্ধ রয়েছে ছাত্রাবাসগুলোও।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে কলেজের ছাত্রাবাসে ধর্ষণের শিকার হয়। সেই ঘটনার পর দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসগুলো পুরোপুরি বন্ধে তৎপর হয়ে উঠে কলেজ কর্তৃপক্ষ। নতুন করে ছাত্রাবাস পুরোপুরি বন্ধের নোটিশও দেয়া হয়।

বিশেষ সুত্রে জানা যায়, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাদ্দাম হোসেন, হিমু ও বহিরাগত তার দুই বন্ধু, সহ সম্পাদক রাকিব হোসেন ও রাজিব, বাইজিদ, মাইনুল খান, সুমন, সবুজ , রাফিউজ সাকলাইন, এনায়েত, মাসুম, হৃদয়, ছাত্রলীগ কর্মী মেহদী হাসান, নেছার , তিতুমির কলেজের শিক্ষার্থী রাসেল, আরাফাতসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও বহিরাগত মিলে প্রায় ৩০জনের মতো এখনো হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছে, যারা বেশির ভাগই রাতে এসে হলে অবস্থান করছে।

হলের আবাসিক একজন শিক্ষার্থী জানান, কলেজ ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান মোহন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাওলাদারের কমিটির সবেক সহ সম্পাদক রাকিব হোসেন বর্তমানে কলেজের শিক্ষার্থী না হয়েও বহিরাগতভাবে হলে অবস্থান করছে। যার বিরুদ্ধে সুত্রাপুর থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। হাজতও খেটেছে দুই বার।

হলের অন্যান্য আবাসিক শিক্ষার্থীরা বলছে, হলের মধ্যে বহিরাগতদের এনে মাদক সেবন এবং মাদক ব্যবসা করছেন তিনি। আর তার বিরুদ্ধে কলেজ প্রশাসন জানার পরেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

হলের আবাসিক সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাষ্য তাদেরকে হলে না থাকতে দিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হলে থাকতে সহায়তা করছেন। এসব শিক্ষার্থীরা হলে থাকা তাদের মূল্যাবান মালামাল নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে
লকডাউন চলাকালীন অবস্থায় এসব সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুই বার মালামাল চুরি হয়েছে। যার মধ্যে কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং ক্যামেরাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি হয়। এ নিয়ে অভিযোগ দিলেও তাতে কোন সাড়া দেয়নি কলেজ অধ্যক্ষ।

হলে অবৈধভাবে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্ল্যাহ খোন্দকার বলেন, “বিষয়টি
সর্ম্পকে আমরা অবগত। তাদের সরাতে দুইবার করে নোটিশ জারি করলেও তারা হল ত্যাগ করছে না।”

তিনি আরো বলেন, “হল থেকে সরাতে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে অ্যাকশনে যাবে কলেজ প্রশাসন।”

এদিকে সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলেজ প্রশাসন চাইলে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

Share this...
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – pbn.news24@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ