১৫ই জুলাই, ২০২০ ইং, বুধবার

করোনাভাইরাস;ভালো নেই ফকিরহাটের কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের শিক্ষকরা!

আপডেট: জুন ২৯, ২০২০

| পিবিএন রিপোর্ট

আসাদুজজামান আসাদ, ফকিরহাট( বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাস (কোভিট-১৯) কারণে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।সেই উপলক্ষে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলারও কিন্ডার গার্টেন(কেজি স্কুল) বন্ধ রয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সকল শিক্ষক-কর্মচারীরা। স্কুল বন্ধ থাকায় বেতন নেই।দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা।

মানবেতর জীবনযাপন করা শিক্ষকরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছে অনেকে। জানা গেছে, ফকিরহাট উপজেলায় প্লে থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত কিন্ডার গার্টেন স্কুল রয়েছে প্রায় ১১টি এবং ৩য় শ্রেনী পর্যন্ত স্কুল রয়েছে আরো ৩টি । মোট ১৪ টি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে কর্মরত শিক্ষক – কর্মচারী রয়েছে প্রায় ১৫০ জন।

আর এ শিক্ষকরা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে থাকেন। এ সকল কিন্ডার গার্টেন স্কুল শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি দিয়ে চলে।

শিক্ষার্থীদের থেকে আদায় অর্থ সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়। কিন্তু করোনার কারনে সরকারী আদেশে সকল কিন্ডার গার্টেন বন্ধ রয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা। স্কুল বন্ধ থাকায় কোনো বেতন নেই। টিউশন ফি বন্ধ। এ কারনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক সম্মানীও বন্ধ।

এছাড়া ঘরে-বাহিরে যাওয়া বন্ধ হওয়ায় অনেক শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ নেই। আবার অনেকেই অস্বচ্ছল। শিক্ষক পেশায় থাকায় সমাজে সম্মানীয় হওয়ার কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ গ্রহণ করতে পারছেন না। আবার না পারছে মুখ ফুটে কিছু বলতেও।

ফকিরহাট আর্দশ বিদ্যালয় কেজি স্কুলের শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অর্থ না থাকলেও শিক্ষক পরিচিতির কারণে আমরা অন্যের নিকট সাহায্য চাইতে পারি না।এখন আমাদের অনেকের চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

শিক্ষক মোঃ রুবেল বলেন ‘বেতন তো বন্ধ সেই সাথে টিউশনি ও বন্ধ কোন রকম ধার দেনা করে চলছে সংসার। চলমান দুর্যোগে ফকিরহাটের কেজি স্কুল সমূহের শিক্ষক কর্মচারীদের সরকারি সহায়তার আবেদন জানান তিনি।’

এ ব্যাপারে ফকিরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ নন্দী বলেন, ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে ফকিরহাটের কেজি স্কুলগুলো অনেকে ভালো করছে। তবে সহযোগীতার ব্যাপারে তিনি বলেন সরকারি কোন আদেশ এখনো আসেনি যদি আসে অবশ্যই তাদের সহায়তা করা হবে।’