ঢাকা, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
shodagor.com

কুহর, অ্যালিস মানরো

প্রকাশিত: শুক্রবার, নভেম্বর ২০, ২০২০ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ  

| পিবিএন ডেস্ক

অনেক দিন আগের কথা, মা যখন ছোট ছিলেন, তখন তারা সবাই মিলে বিভিন্ন ধরণের নৃত্য চর্চা করতেন। তাদের এই নাচের উৎসব কখনো তাদের স্কুলে ঘরে আবার কখনো বা সেটা নিজেদের খামার বাড়িতে। আয়োজন করা হত। এতে প্রায় সব বয়সের লোকেরা অংশ নিতে পারতো। তাদের এক একজনের ছিল এক এক রকম প্রতিভা। কেও বাজাতো পিয়ানো আবার কেও নিজেদের বেহালা নিয়ে আসত। তবে সত্যি বলতে তাদের বিশেষ নৃত্য যেটা কিনা স্কোয়ার নামে পরিচিত, সেই নৃত্যটা ছিল খুবই কঠিন। আগে থেকে না জানা থাকলে এই নাচ পরিবেশন করা প্রায় অসম্ভব। তবে যেহেতু সে সময়ের লোকেরা কিশোর বয়স থেকেই এই নৃত্যে অভস্ত্য তাই তাদের জন্য এইটা কঠিন কোন বিষয় ছিল না।

মা এখন বিবাহিত, আমি সহ তার আরো দুটি বাচ্চা আছে। তবে তিনি এখোনো সেই নাচটিকে অনেক পছন্দ করেন। যদি মা এখন গ্রামে থাকতেন তবে এই নাচের সাথেই সম্পৃক্ততা বজায় রাখতেন কেননা গ্রামে এখোনো এই নাচের বেশ চলন। তবে মা প্রেমিক যুগলদের মত গোল হয়ে ঘুরে ঘুরে নাচাটাকে বেশী পছন্দ করেন যদিও সেটা অনেকটাই পুরান ধাচের নৃত্য। তবে আমাদের এইখানে এমন কোন পরিবেশ নেই, কারণ আমরা সপরিবারে শহরে থাকতাম যদিও এইটা দেশের ভেতরেই তবুও গ্রাম থেকে বেশ দূরে।

আমার বাবাকে সবাই আমার মা এর চাইতে একটু বেশি পছন্দ করতেন। তিনি ছিলেন এক কথার মানুষ, যা ছিল তাই নিয়েই খুশি থাকতেন। তবে আমার মা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি তার খামার জীবন থেকে বের হয়ে সভ্য জীবনযাপনের উদ্দ্যেশে একজন স্কুল শিক্ষিকা হতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। কারণ তিনি মনে করতেন যে তিনি যা করতেন এটা তার যথেষ্ট ছিল না তাকে তার পছন্দের পদটি দেওয়া হয় নি যা তার মতে তার শহরের বন্ধুরা পছন্দ করতেন না। তাছাড়া খুব একটা টাকা যে পেতেন তাও না, তাই মা চাইলেই নিজের মনের মত করে নিজেকে সাজাতে পারতেন না। তিনি চাইলেই তাশ জাতীয় খেলা খেলতে পারতেন তবে জুয়ার দিকে যেতেন না। তিনি অনেকটা এমন মানুষ ছিলেন যে যদি কাওকে ধুমপান করতে দেখতেন তবে নিজেকে তার থেকে ছোট মনে করতেন। তবে তিনি নিজেকে কিছুটা অদ্ভুদ ভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করতেন কারণ তিনি কিছু ইংরেজি শব্দের উচ্চারণ অন্যভাবে করতেন। তবে এই দিকটা এসেছে তার পরিবারের সদস্যদের থেকে, যদিও তারা সবসময় যে এইভাবেই কথা বলেন এমন না। কেনোনা তারা যখন তাদের খামার বাড়ির বাইরের কারো সাথে কথা বলেন তবে তারা আর দশটা সাভাবিক মানুষের মতই শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতেন। কিন্তু আমার মা সবর্ত্রই একইভাবে কথা বলতেন এই জন্য হয়তো আমার খালা চাচারা মাকে তেমন একটা পছন্দ করতেন না।

shodagor.com

তবে আমি এইটা বুঝাচ্ছি না যে আমার মা অস্বাভাবিক। কারণ তার সবকিছুই যে জটিল এমনটা নয়, আর অন্যসব মহিলার মত তিনিও রান্নাঘরেই গিয়েই রান্না করেন। আর দশটা রান্না ঘরের মত আমাদের রান্নাঘরেও পানির জন্য চলমান কোন নল ছিল না। তিনিও গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় শীতকালের জন্য খাবার প্রস্তুত করে সেগুলো সংগ্রহ করে রাখতেন, এইভাবে তিনি নিজেকে বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত রাখতেন। তিনি চাইলেও আমাদের এতটা সময় দিতে পারতেন না। অন্যথায় তিনি আমার জন্য হতাশা অনুভব করতেন, হয়তো ভাবতেন আমার ভালো কোন বন্ধু শহরের স্কুল থেকে আমাদের বাড়িতে কেনো আসে না? অথবা কেনো আমি স্কুলের আবৃতি অনুষ্ঠানে লজ্জাবোধ করেছিলাম যদিও আমি আবৃতিটা খুব ভালো পারতাম। আর কেণই বা আমি আমার চুলে থাকা রিংলেটটা ছিড়ে বাড়ি ফিরে এলাম, তবে স্কুলের যাওয়ার আগেই আমি অনুমান করতে পেরেছিলাম যে রিংলেটটা ঠিক থাকবে না,, কেনো না এইটাকে আমার চুলে যেইভাবে বেধে দেওয়া হয়েছিল তাতে কারো চুলের এইটা ঠিক থাকার কথা না। তবে আমি নিজেও ভাবি যে কেনোই বা আমি কবিতাটা আবৃতি না করে ওইভাবে ফিরে এলাম যেখানে আমার মাঝে কবিতা আবৃতির সব ধরণের মেধা ছিল। জানি না কেন আমি সেটা কখনোই প্রকাশ করতে পারি নি।

তবে আমি কিন্তু ঝগড়াতে মেয়ে না। কখনো যে ছিলাম এমনো না। আমি প্রায় দশ বছর বয়স থেকেই মা এর সাথে সাজুগুজু ও নাচে আগ্রহী।

একদিন , আমাদের বাড়ির রাস্তার বিশাল একটী বাড়িতে একটি নাচের উৎসবের আয়োজন করা হয়। তবে বাড়িটা বিশাল হলেও এতোটা যে সুন্দর তা কিন্তু না। বাড়ির ভেতরে একটি বড় কাঠের ঘর ছিল। সেখানে অনেক বেকার লোক ছিল তাদের মধ্যে শুধু এই বাড়ির স্ত্রীর স্বামী, তিনি একমাত্র একটী কাঠের কোম্পানিতে কাজ করতেন, তো সেই হিসাবে উনি বাদে আমি আর কাওকেই চিনতাম না। তবে লোকটিকে আমার দাদার বয়সীই ধরা যায়। আমি ভাবছিলাম যে তিনি তখোনো কেনো কাজ করা ছেড়ে দেননি। কারণ তিনি তার এই বয়সে যতটুকু সম্ভব কাজ করেছেন এবং টাকা বাচানোর চেষ্টা করেছেন যা আর দশটা সাধারণত মানুষ পারত না। তবে একটা সময়ে হয়তো এইটা তার জন্য অনেক বড় দুঃখের কারণ হতে পারে। হতে পারে তার ছেলেমেয়েরা তার জন্য লজ্জিত। তারা নিজেদের নিয়েই হয়তো ব্যাস্ত। যদিও এতো প্রশ্ন তখন আমার মাথা আসেনি যা এখন আসে।

আমি ভাবছিলাম যারা বাড়িতে বাসতো তারা কি এই উৎসবে বিনা পারিশ্রমিকে নাচছিল নাকি এর জন্য তারা টাকা নিচ্ছিল। কেনোনা তারা সবাই অনেক অসুবিধায় থাকতো। যেহেতু তাদের চাকরী ছিল না, তাদের অনেক কিছুর জন্য টাকা খরচ হত। সত্যিকার অর্থে চাকরী না থাকাটা পরিবারের উপরে অনেক ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আমি আমার নিজের পরিবার নিয়েও অনেকটা সংকিত ছিলাম। কারণ আমার ছোটবোন অনেক দুর্বল ছিল যদিও ওর টনসিলটা ততদিনে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল আর আমার ভাই এর প্রতি শীতে ভয়াবহ ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত হয় যার ফলে আমদেরও ডাক্তার দেখাতে হয় আর সেখানে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়।

যদিও আমি ভাবছিলাম আমার বাবা নিজে না এসে আমাকে আমার মায়ের সঙ্গে কেনো পাঠালেন। যদিও এইটা কঠিন কোন প্রশ্ন না, কারণ আমার বাবা নাচতে হয়তো তেমন একটা পছন্দ করতেন না যেখানে মা ছিলেন ভয়াবহ নাচভক্ত। তাছাড়াও আমাদের ছোট দুই ভাইবোনকে দেখা শোনা করতে হয় যার জন্য আমি তখনো উপযুক্ত ছিলাম না কারণ আমার বাবা মা কখনোই বাচ্চারক্ষিকা ভাড়া করেছিলেন বলে আমার মনে নেই।

বাংলা অনুবাদক
মো: জাকির হোসেন, ইংরেজি বিভাগ,
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – [email protected] ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ