১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

| ফিচার-মতামত

বর্তমানে গণমাধ্যম মানে একটি দেশের আয়না।আর সাংবাদিকরা হল এই গণমাধ্যমের প্রাণভোমরা। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের জনপ্রিয়তার সাথে সাথে জনপ্রিয় এক পেশার নামও হয়ে উঠেছে সাংবাদিকতা।তারই সাথে বেড়েছে আমাদের দেশের ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার প্রসার।ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা যেমনিভাবে ক্যাম্পাসের উন্নতি-অগ্রগতি তুলে ধরেন ঠিক তেমনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন।সাংবাদিকতায় যেমনি শুভাকাঙ্ক্ষী পাওয়া যায় তেমনি তাদের সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণকারী লোকেরও অভাব নেই।আজকে লিখব সাংবাদিকতা সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারনা।

অনেকেই মনে করেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সবাই সব নিউজ কপি পোস্ট করে।আমি বলি কোনো নিউজ ১০০% হুবাহু একইরকম হয় না।
ক্যাম্পাসের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু নিউজ একই হতে পারে।তাই বলে প্রত্যেকটা লেখা কিন্তু কপি নয়।বরং তাদের পরিশ্রমের ফলেই প্রতিটা নিউজ তৈরি হয়।

আবার অনেকেই ভাবে,সাংবাদিকরা মানুষকে ব্লেকমেইল করে।তাদের উদ্দেশ্যে বলছি,সাংবাদিকদের এই ব্লেকমেইল করার অভ্যাসটা নেই তারা সত্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করে।সত্যকে আপনাদের ব্লেকমেইল মনে হতে পারে।সব ক্ষেত্রে আপনাদের মতামত কিন্তু সঠিক নাও হতে পারে।
আবার সবাই মনে করে সাংবাদিকরা ক্যাম্পাসে খুব পাওয়ার খাটায়।পাওয়ার মানেই ক্যাম্পাস প্রশাসন,ছাত্র কিংবা রাজনীতিবিদদের উপর আক্রোশ ছড়ানোই বোঝানো হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে কিন্তু কিন্তু তেমন শখ্যতা এখন নেই।কিন্তু বর্তমানে ক্যাম্পাসে শিক্ষক,ছাত্র,রাজনীতিবিদ দের সাথে প্রচুর ভালো সম্পর্ক বিরাজমান।

সাংবাদিকরা তো টাকার লোভে সাংবাদিকতা করে।এই মতামত টা আমি মোটেও সমর্থন করিনা।খুব কম সাংবাদিকই আছেন যারা নিজের বাসা ভাড়া ঠিক সময়ে দিতে পারেন।ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা নিজের বাবার টাকায় খেয়ে সাংবাদিকতা করে।তাদের আসল উদ্দেশ্য টাকা না।তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ক্যাম্পাস কে মানুষের সামনে তুলে ধরা।ভালো কাজের প্রশংসা আর দূর্নীতিবাজ এর কুকর্মের চেহারা জনসম্মুখে তুলে আনাই তাদের কাজ।

ছাত্রলীগের ভয়ে কিংবা টাকা খেয়ে সাংবাদিকরা নিউজ করে।আমি মনে করি এমন মন্তব্য করা কমনসেন্সের অভাব ছাড়া কিছুই হতে পারেনা।সাংবাদিকরা সত্যের সন্ধানে কাজ করে থাকেন।সত্য সেটা হোক ভালো কিংবা খারাপ তাদের কাজ প্রচার করা।টাকা নিয়ে চুপে চুপে থাকার গল্পের চেয়ে টাকার খাম ফিরিয়ে দেয়ার গল্প প্রায় সব সাংবাদিকের জীবনে আছে।রাজনীতিবিদদের হুমকিকে উপেক্ষা করেই সাংবাদিকরা সংবাদ প্রচারে ভুমিকা পালন করে।

আমরা জানি, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সাংবাদিকরা অনেক কিছুই পারেন। প্রথম বিশ্বের দেশগুলোতে সাংবাদিকরা আগেই সংকেত দিতে পারেন, ওই দেশের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে। তা ফলেও যায়। এর অন্যতম কারণ এরা কোনোভাবেই রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট নয়। আর নয় বলেই তাদের চোখ খোলা।

দোষ-ত্রুটি সব পেশাতেই থাকে, থাকবে। ঢালাওভাবে অন্য পেশার পেশাজীবিদের সম্পর্কে অসম্মান জন্মে এমন মন্তব্য না করাই কিন্তু সেই পেশাজীবিকে মানুষ হিসেবে সম্মান দেয়া। স্রষ্টা সবাইকে কমনসেন্স বিষয়টা বুঝবার সক্ষমতা দিক।

লেখক- আব্দুল্লাহ আল নোমান
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়