১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং, সোমবার

খরগোশের কাছে চিঠি!

আপডেট: জুলাই ৮, ২০২০

| ফিচার-মতামত

প্রিয় খরগোশ,
জি হ্যা! তোমাকেই বলছি!
প্রথমবার যখন আপনার প্রেমে পরেছিলাম তখন আপনাকে ঠিক অতটা বুঝনি। আপনার যে কি মায়া! আপনার তখনকার মায়াজালের কোথাও একটু ফুটো ছিল মনে হয়। আর সেই ফুটোর আয়তনের তুলনায় আমি নিতান্তই নগন্য। তাই তো অনায়াসেই বেরিয়ে পরেছি। তা না হলে এটা কি সম্ভব বলেন?

পৃথিবীতে আমরা সবাই স্বার্থপর। কেননা পৃথিবীতে আমরা সবাই প্রথমে নিজের কথা ভাবি,পরে অন্যের। আর তাই প্রথম পরাজয় মুছে যাবার আগেই দ্বিতীয়বার পরাজিত হতে হয়।
জীবনটা সত্যি কঠিন। এখন অনেকটা বুঝতে পারি।

ছোট বেলা থেকেই আব্বু-আম্মু তেমন আমার কাছে ছিল না। আব্বু এক জায়গায়, আম্মু অন্য জায়গায় তো আমি আরেক জায়গায়। আর এটাই হয়তো কঠিন জীবনের বাস্তবতা। তাই দূর থেকে আব্বু আম্মুর ভালোবাসা অনুভব করতে পারি নাই।

কথা গুলো গল্পের মতো হলেও এটাই সত্যি। আমার ভালবাসার আরেক নাম ছিল খরগোশ! কিন্তু আমি খরগোশের ভালোবাসাও অনুভব করতে পারি নাই। আমার অনেক দিনের শখ ছিল খরগোশকে একটা পাহাড় কিনে দিবো। কিন্তু আশ্চর্য পাহাড় কি বিক্রি করে?

যদি তার দেখা পেতাম, দামের জন্য আটকাতো না। জানো! আমার নিজস্ব একটা নদী আছে। সেটা দিয়ে দিতাম, পাহাড় টার বদলে। কে না জানে পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশি। পাহাড় এক জায়গায় দারিয়ে থাকে আর নদী বহমান। তবু আমি নদীর বদলে পাহাড়ই কিনতাম। কারন আমি ঠকতে চাই।

খরগোশ, আমার আমি আমাকে ছেড়ে তোমার আমি হতে পারিনি। তো কি হইছে?
Mind open হইছে। আসলে mind এ কিছু নাই। সব চোরাবালুতে আটকা পরছে। একটা দিন কথা বলার মধ্যে কোন ভালোবাসা খুঁজে পাইনি। তাহলে আমার আমি আমাকে ছেড়ে তোমার আমি কি করে হবো?

কিন্তু আপনাকে যদি একবার ভাল করে দেখতে পারতাম!
একবার একটু স্পর্শ করতে পারতাম!
একটা বার যদি খরগোশ বলে ডাকতে পারতাম! তাহলে হয়তো আমার অতৃপ্তিটা পূরণ হইতো।

খরগোশ যদি কোন দিন দেখা হয়, আপনার মনের দরজা খুলে দিয়েন আমার কাছে। আপনার অনেক চাওয়ার পাশে আমার অনেক পাওয়ার স্বপ্ন গুলোকে সাজিয়ে নিবো।

জানেন!
খুব ইচ্ছে ছিল আপনি যেই শহরে থাকেন সেই শহরটা কেমন? সেটা দেখার।
সেই শহরের রাস্তায় হেঁটে চলার!
কিন্তু দেখেন?
রাস্তায় কত লোক আসছে, যাচ্ছে, হাসছে, কথা বলছে। ওরাও হয়তো ভাবছে কারো কথা। কারো স্বপ্ন আঁকছে মনে মনে। আবার হয়তো কল্পনার চোখে দেখার চেষ্টা করছে তার কোন প্রিয় মুখ। কিন্তু সেই কল্পনাও ঝাপসা হয়ে আসে আপনি বিহীন শহরে আছি বলে।

আমি তখন শুধু শুধুই আপনার প্রেমে পরেছিলাম। সে প্রেমে কোন মুগ্ধতা ছিল না। মগ্নতাও ছিল না। সেখানে একরাশ হাহাকার, বিষন্নতা আর দ্বীর্ঘশ্বাস গুলো গাদাগাদি করে বাসা বেঁধেছিল৷ আর তাই তো আমি অমন আকুলি বিকুলি করেও সেখানে স্থান পাইনি।

আমি প্রতারিত হয়েছি। তাতে কি?
আমার বরং ভালোই হয়েছে। তা না হলে তো আপনাকে চিনতে পারতাম না।
আপনার আমাকে মুগ্ধ করার ‘অসহ্য ক্ষমতা’ মুখোশের আড়ালেই ঢাকা পরতো। তখন আমি এমন মায়াময় একটা প্রেমিক পেতাম না। তখন মুগ্ধতাকে ভালোবাসার চাঁদরে জরিয়েই আমার এক জীবন কেটে যেত মুগ্ধতা হীনতায়।

আবারো প্রতারিত হয়েছি!
আমি আরো শত- সহস্র কোটিবার প্রতারিত হতে চাই, শুধু আপনার একটুখানি মুগ্ধতার লোভে!

ভালোবাসি প্রিয় খরগোশ কারন আমি জানি আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না……

লেখাঃ
মোছাঃ ইসমাতুল জান্নাত শিলভী
প্রাত্নন শিক্ষার্থী
ভবানীপুর ড্রিগ্রি কলেজ