১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং, সোমবার

গরু রেঁধে খাওয়াবে “লাভ গরু”, কেনো এই উদ্যোগ?

আপডেট: জুলাই ১০, ২০২০

| পিবিএন রিপোর্ট

এখন করোনার কারনে অনেকেই বাইরে বের হতে পারছেনা, সকলের নিরাপত্তার জন্যে আসলে ঘরে থাকাটাই উত্তম, আগের মত জনসমাগম করা এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, তো এরকম একটা অবস্থায়, আসলে ঘরে সবাই বসা, তো তখনই মনে হলো, যদি এই সময়ে কিছু একটা করে আয় করা যায়। রান্নার প্রতি এবং খাওয়া দাওয়ার প্রতি একটা বাড়তি ঝোক সব সময়ই কাজ করতো, তাই মনে হলো এটাকে নিয়ে যদি কোন বিজনেস প্ল্যান করা যেতো।

কবে মাথায় আসলো?
মাথায় তো এসে ছিলো, বহুকাল আগেই, কিন্তু ইমপ্লিমেন্ট করা হয়নি। আমরা তো আসলে বলি অনেক কিছু, অনেক কিছু করবো বলে ভাবি, কিন্তু শুরুটাই আর করা হয় না। তো বলা যেতে পারে আমি শুরু করে দিয়েছি জুনের শেষ দিকে। পুরো বিজনেস প্ল্যান দাড় করাতে আমাকে অপারেশন প্রসেস ঠিক করতে হলো, যেহেতু ঘরোয়া বিজনেস, বাসায় কার কি কাজ সেটা ঠিক করা লাগলো, প্রত্যেকের বেতন ঠিক করতে হলো, বাইরে থেকে হেল্পার (গৃহ পরিচালিকা) ঠিক করা হলো এই কাজের জন্যে।

বাসার কিচেন নিজেদের রান্নার জন্যে ছিলো, সুতরাং, নতুন করে কিচেন সেট আপ করা লাগলো। ইনভেন্টরি প্ল্যান করা লাগেনি, কারন আমরা কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা আগে অর্ডার নিচ্ছি। কোন কাস্টমার অর্ডার করে, পেমেন্ট করে দিলে তবেই সব বাজার হবে, রান্না হবে, ডেলিভারী হবে। আবার খুব বেশি আইটেমের ঝামেলাও আমাদের নেই।

আমাদের আইটেম একটাই, চুইঝাল দিয়ে গরুর গোস্ত, তবে কেউ অনুরোধ করলে আমরা খাসির গোস্তও রান্না করে দিতে পারি। আমাদের চুইঝাল আসে বাগেরহাট থেকে, বাজার থেকে গোস্ত কেনা হয়, প্রতি ১২-১৩ পিস গোস্তে এক কেজি হয়। কাচা অবস্থায় সেভাবেই ম্যাপ দিয়ে কিনি আমরা। সকল উপকরন রান্নার দিন সকালে কিনে রান্না করা হয়, যে কোন কাস্টমার চাইলে এক কেজি থেকে শুরু করে যে কোন পরিমানে রান্নার জন্যে অর্ডার দিতে পারেন। আমরা রান্না করে ঘরে পৌছে দিবো।

দুজন কাস্টমারের ভালো এক্সপেরিয়ান্স নাম সহ।
আমরা ফেসবুকে পেজ খোলার সাথে সাথে সোহাগ সিকিউরিটিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সোহাগ ভাই অর্ডার করেন, তার কাছে এতোটাই ভালো লেগেছে যে তিনি আবার অর্ডার করেছেন। এছাড়াও ট্রাভেল বিডি এক্স ওয়াই জেডের ফাউন্ডার আহসান রনি, লার্নিং বাংলাদেশের ফাউন্ডার সাব্বির সাহেব, স্বপ্নযাত্রা ট্রাভেল গ্রুপের সিইও বিল্লাহ মামুন সাহেবও আমাদের সম্মানিত ক্রেতাদের মাঝে উল্লেখ করার মতো। এ পর্যন্ত ২ দিন রান্না হয়েছে, শুরুতে আমরা প্রতি বুধবার রান্না করছি। মোট ২৩ জন কাস্টমারকে ডেলিভারি দিয়েছি। তারা সবাই খেয়ে সন্তুষ্ট।

বাসায় সাপোর্ট কেমন পাচ্ছেন?
বাসার সবাই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সাহায্য করছে। সবাই ঘরের কাজে হাত দিচ্ছে, এমনকি ডেলিভারিও আমরা নিজেরাই করছি। রান্না হলে বাসার সবাই ঠিকানা বরাবর দেই ছুট। টিকে থাকতে হলে সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে, কোন বিকল্প নাই।

গোস্তের দাম কত? কিভাবে অর্ডার করা যায়?
আমাদের চুইঝাল দিয়ে রান্না করা প্রতি কেজি গোস্তের দাম মাত্র ১২৫০টাকা। আর খাসির গোস্ত ১৮৯৯টাকা। সেই সাথে ঢাকার ভেতরে যে কোন জায়গায় ডেলিভারি ফি মাত্র ১০০টাকা।উল্লেখ্য চুইঝাল এক প্রকার গাছের শিকড়, এটা গোস্তের সাথে দিলে রান্নার স্বাদ ও ঘ্রান চেঞ্জ হয়ে যায়।

এটা প্রতি কেজির দাম ১২০০-২০০০টাকা পর্যন্ত ভ্যারি করে।ঢাকার বাইরে আমাদের কোন সেবা নাই। আমাদের হটলাইন নম্বর বা ফেসবুক পেজ থেকেই অর্ডার নেয়া হয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
ভবিষ্যতে তো অনেক পরিকল্পনাই ছিলো, কিন্তু সামনে আসলে অবস্থা কোনদিকে যায়, তার উপর ডিপেন্ড করে, লাভ-গরু কোনদিকে যাবে। তবে হতে পারে, সামনে যদি অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হয়, সেপারেট কিচেন সেট আপ দিয়ে আরেকটু বড় পরিসরে করবো সব। তবে, রেস্টুরেন্টের মতো স্পেস রেন্ট নেয়ার কোন ইচ্ছা নেই। বাসায় করা রান্না বাসায় বসেই খাই, আপাতত এই আমাদের স্লোগান।

আপনি কে?
আমি আসলে এখন কন্টেন্ট রাইটার, মূলত সিভি রাইটিং নিয়ে কাজ করি। এর পাশাপাশি আমার ১৪টির মতো বই রয়েছে। এই তো।