ঢাকা, ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
shodagor.com

“চিঠিতে ভাষা শহিদদের স্মরণ” দ্বিতীয় হয়েছে শানিন হক

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ ২:১২ অপরাহ্ণ  

| পিবিএন ডেস্ক

স্বপ্ন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশান আয়োজিত
“চিঠিতে ভাষাশহিদদের স্মরণ” ইভেন্টে প্রথম হয়েছে নাজনীন জাহান পুষ্পিতা। পাঠকদের সুবিধার জন্য পুষ্পিতার লেখাটি হুবুহু নিচে দেয়া হলো:

শ্রদ্ধেয় দাদাভাই,
তুমি কেমন আছো? তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো তোমার ফেলে যাওয়া পরিবার কেমন আছে? কারণ,তোমরা তো ঐ দূর আকাশ থেকে সব দেখতে পাও-সব বুঝতে পারো। শুধু আমরা-ই হাজার চেষ্টা করেও বুঝতে পারি না তুমি কেমন আছো-কী করছো ইত্যাদি ইত্যাদি।আমি রোজ পড়ার ফাঁকে রাতের আকাশের সবচেয়ে জ্বলজ্বলে তারাটার দিকে তাকিয়ে কথা বলি কারণ ছেলেবেলা থেকেই দাদি শিখিয়েছেন ঐ বহুদূরের আকাশের জ্বাজ্জল্যমান নক্ষত্রটি শুধুই তুমি। আমিও তাই বিশ্বাস করে এক বদ্ধমূল ধারণা হৃদয়ে লালন করেছি-করে চলেছি। শুধুমাত্র তোমার কথা মনে পড়ে কিংবা তোমার সাথে গল্প করতে ইচ্ছে করে বলেই কিন্তু রোজ তারার পানে চেয়ে চেয়ে তোমায় ডাকি না। আমি ডাকি তোমায় বাংলা শোনাতে। হ্যাঁ, সেই বাংলা ভাষা যে ভাষার সম্মানের জন্যে তুমি নিজের মহামূল্যবান প্রাণকে উৎসর্গ করেছিলে।যে ভাষার জন্যে এত ত্যাগ-তিতিক্ষা সেই ভাষা না শুনলে বুঝি প্রাণ জুড়ায়? তাই তো, আমি রোজ তোমার সাথে বাংলায় কথা কই।
তোমার জন্যে আমি বাংলায় গান গাই। তুমি সেই গান শুনতে পাও তো,দাদাভাই?

তুমি কি জানো, আমার খুব মন খারাপে কিংবা মন ভালোতে আমি তোমাকে চিঠি লিখি। সেই প্রতিটা চিঠি একঝাঁক বেলুনে বেঁধে আকাশে উড়িয়ে দেই এই ভেবে যে তা হয়তো তোমার মেঘবাড়ির পোস্টবক্সে পৌঁছুবে। আচ্ছা দাদাভাই, বেলুনগুলো ঠিকঠাক পোস্টবক্সে আমার চিঠি পৌঁছে দেয়?

shodagor.com

আজ প্রায় সত্তর বছর হলো, তুমি পরপারে পৌঁছেছো। নিজের কথা বিন্দুমাত্র না ভেবে, নিজের জন্যে কখনো কোনো চিন্তা না করে সারাটাজীবন ধরে শুধু দিয়েই গেছো।জীবনের শেষমুহুর্তে আমাদের দিয়েছো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার-‘নিজস্ব ভাষা’। বাঙালি জাতি পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র জাতি যাঁরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার জন্যে রক্ত দিয়েছে। আর,তুমিও ছিলে সেই মহানায়কদের একজন। তোমরা বাংলা মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান। এ দেশকে তোমরা যা দিয়েছো তা কখনো ভোলার নয়।জানো, দাদাভাই আজ থেকে ২১ বছর আগে ২১শে ফেব্রুয়ারি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা;সমগ্র বিশ্বে মহাসমারোহে পালিত হয় এই দিনটি।

এমনকি,বাংলা ভাষা পৃথিবীর মধুরতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এতসব অর্জন শুধুই তোমাদের জন্যে হয়েছে। তুমি এবং তোমার সহযোদ্ধাদের প্রতি রইলো আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধা।তোমার মতো বীরের বংশধর হয়ে আমি ভীষণভাবে গর্বিত। আমি সর্বদা শুদ্ধ-সাবলীল বাংলা বলাত চেষ্টা করি, কখনো বাংলার সাথে অন্য ভাষার সংমিশ্রণ ঘটাই না।তাতে তোমার মতো ভাষাশহীদদের অবমাননা করা হয়, বাংলা ভাষার অপমর্যাদা করা হয় তাই না বলো? অনেক ধন্যবাদ দাদাভাই,আমাদের এত সুন্দর একটা ভাষায় কথা বলার সুযোগ করে দেবার জন্যে,বাংলায় বাঁচার ব্যবস্থা করে দেবার জন্যে।

আজ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নেবার কোথাও কেউ নেই, বাংলা শব্দ উচ্চারণের দায়ে হাতে-পায়ে শেকল পড়াবার স্পর্ধা-ও কারো নেই তবু এদেশের তথাকথিত উচ্চ সম্প্রদায়ের মানুষ এবং বর্তমান তরুণপ্রজন্মের একটা বড় অংশ উত্তরাধুনিকতার প্রমাণ দিয়ে গিয়ে বারবার সমৃদ্ধ বাংলা ভাষার মানহানি করছে।তারা শুদ্ধভাবে সম্পূর্ণ বাংলা বলার চেয়ে ভিনদেশি ভাষায় ভাব প্রকাশ করাকে শ্রেয় মনে করে এবং তাতে কদাচিৎ কতিপয় বাংলা শব্দ খুঁজে পাওয়া যায়। তখন ভীষণ দুঃখ এবং লজ্জায় কুঁকড়ে যায় তোমার নাতনির এই কোমল হৃদয়। মনে হয়, চিৎকার করে ওদের গিয়ে বলি তোমরা দয়া করে এভাবে কথা বলো না। মাতৃভাষার এহেন অসম্মান করো না। এতে,সেই লোকগুলো ভীষণভাবে আঘাত পায় যাঁরা সত্তর বছর আগে কোনো কিছুর পরোয়া না করে ভাষার জন্যে প্রাণ দিয়েছে। শুধুমাত্র পরবর্তী প্রজন্ম বাংলা ভাষায় বাধাহীনভাবে কথা বলতে পারবে এইটুকু আশায় বুক বেঁধে স্বীয় পরিবার-পরিজনের কথা না ভেবে অকাতরে প্রাণ দিয়েছে যাঁরা তাঁদের অমূল্য ত্যাগ কে তোমরা এত তুচ্ছ করে দিও না!বাংলা মায়ের বীর সন্তানদের ব্যর্থ করে দিও না।

দাদাভাই, কথাগুলো লিখতে গিয়ে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,চোখের জলে কাগজের পাতা ভিজে যাচ্ছে। তাই, আজ আর নয়।ভালো থেকো। চিন্তা করো না, আমি অন্তত কখনো আমার দাদার রক্ত দিয়ে কেনা ভাষার মান বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করবো না। শীঘ্রই, আবার কথা হবে। বিদায়!

ইতি,
তোমার আদরের নাতনি
বর্ণমালা

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – pbn.news24@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ