২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

ডিএমএফ ডাক্তারদের প্রাপ্তির খাতা শূন্য

আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০২০

| পিবিএন ডেস্ক

১৯৭১ সালের পর যুদ্ধাহত স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, অনেক গরীব, দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়াও সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন সামান্য কলেরা রোগে গ্রামের পর গ্রাম জনশূন্য হয়ে যেত। যা জনবান্ধব বঙ্গবন্ধু’র সরকারকে ভাবিয়ে তোলে। সেজন্য স্বল্প সময়ে সবার জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু’র সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ১৯৭৩-১৯৭৮ ইং মোতাবেক ব্রিটিশ- পাকিস্তান আমলের লাইসেন্সশিয়েট অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এলএমএফ, মেম্বার অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এমএমএফ ডিপ্লোমা সমমান চিকিৎসকদের কোর্স কারিকুলাম অনুসারে চিকিৎসা বিদ্যায় ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ‘ডিএমএফ’ কোর্স আন্তর্জাতিক ভাবে অনুমোদন করান। ১৯৭৬ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক অধিভূক্ত, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল ( ম্যাটস্ ) এর মাধ্যমে ‘ডিএমএফ’ কোর্স টি প্রথম যাত্রা শুরু করে।

D.M.F কোর্সটি ৩ বছর একাডেমিক এবং ১ বছরের (৯মাস জেলা সদর হাসপাতাল এবং ৩ মাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) ইন্টার্ণশীপ সহ মোট ৪ বছরের, যেটি A-Z ইংরেজি ভার্সন। ভর্তির যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে SSC এবং জীববিজ্ঞান বাধ্যতামূলক। বর্তমানে দেশে ৯টি সরকারি ম্যাটস্ এবং ২০০+ বেসরকারি ম্যাটস্ রয়েছে। MATS থেকে পাশ করার পর Bangladesh Medical & Dental Council (BMDC) এসব D.M.F দের ডি (D) ক্যাটাগরির মেডিকেল প্র্যাক্টিশনার (মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট প্র্যাক্টিশনার) হিসেবে প্র‍্যাক্টিসের অনুমতি দেয়। MATS থেকে পাশ করা ডিএমএফগণ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ‘উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বা এস. এ. সি. এম. ও (S.A.C.M.O)’ পদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি ম্যাটস্ থেকে প্রতিবছর ১০০০০+ ডিএমএফ পাশ করে বের হয়, সরকারী নিয়োগ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দানে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে COVID-19 এর আতঙ্কে যখন সারাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঝিমিয়ে পড়েছে, সেখানে নিজের জীবনবাজি রেখে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। এ জাতির জন্মের পর থেকে রাষ্ট্র থেকে প্রাপ্তির খাঁতা একধম শূন্য, রাষ্ট্র কখনো এই জাতিকে তার প্রাপ্ত সম্মান দেয় নাই, প্রতিদান স্বরূপ কখনো দিয়েছে অপবাদ, কখনো বানিয়েছে তিরস্কারের পাত্র। এই জাতিকে রাষ্ট্র একটা জিনিস উপহার দিয়েছে, সেটা হল চাকরি জীবনের শুরু হত ‘মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে কিন্তু অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীদের ন্যায় ‘উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার – এসএসিএমও’ পদবী করণ হয় ১৯৯৬ সালে, যেটা কার্যকর করতে সময় লেগেছে দীর্ঘ ১৬ বছর।

বাংলাদেশের একমাত্র ডিপ্লোমা প্রতিষ্ঠান MATS যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চান্স পেতে হলে ভর্তি পরীক্ষায় ২০০ এর মধ্যে ১৬০+ নাম্বার পেতে হয়, উল্লেখ্য যে চান্স পাওয়া বেশির ভাগ গরীব এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী। হতাশার বিষয় এখান থেকে পাশ করার পর ২০ বছর বয়সে থেমে যায় শিক্ষা জীবন। কারণ তার উচ্চ শিক্ষার কোন সুযোগ রাষ্ট্র দেয়নি । মেডিকেল ডিপ্লোমার মত অন্যান্য ডিপ্লোমা যেমনঃ নার্সিং, মেডিকেল টেকনোলজি। এদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ আছে কিন্তু এদের নাই। বাংলাদেশের অন্যান্য ডিপ্লোমা যেমনঃ ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা ইন মেরিন টেকনোলজি, ডিপ্লোমা টেক্সটাইল, ডিপ্লোমা ফরেস্ট্রি, ডিপ্লোমা ফিসারিজ এসব কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের পরিবর্তে বাণিজ্য বিভাগ/মানবিক থেকে ভর্তি হলেও দিন শেষে উচ্চ শিক্ষার পথ খোলা থাকায় বাণিজ্য /মানবিক থেকে পাশ করা একজন শিক্ষার্থী হয়ে যায় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, বিএসসি………….।
কিন্তু ৪ বছর মেডিসিন, সার্জারী এবং গাইনী পড়েও হয় না উচ্চ শিক্ষার কোন পথ!! MATS থেকে পাশ করার পর Diploma in Medical Faculty (D.M.F) ডিগ্রী পেলেও দিন শেষে তার পরিচয় সে মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট!

কিন্তু এই বৈষম্য কেন?? নার্সিং এর স্টুডেন্ট মানবিক/বাণিজ্য বিভাগ থেকে পাশ করে ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়ে পাশ করলে হয়ে যায় নার্স (নার্সিং এ্যাসিস্ট্যান্ট নয়), মেডিকেল টেকনোলজিস্টগণ Institute of Health Technology থেকে পাশ করে হয় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, পলিটেকনিক থেকে পাশ করে হয় Diploma Engineer (ইন্জিনিয়ারিং এ্যাসিস্ট্যান্ট নয়), Agriculture Institute থেকে পাশ করে হয় ডিপ্লোমা কৃষিবিদ (এগ্রিকালচার এ্যাসিস্ট্যান্ট নয়)।
ম্যাটস্ থেকে যারা পাশ করেন তারা বেসিক মেডিসিন, বেসিক কমিউনিটি মেডিসিন, বেসিক সার্জারী, বেসিক গাইনী & অবস্ পড়ে থাকে যেমনটা অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীগণ পড়েন, কিন্তু একাডেমিক কোন সাবজেক্টের নাম মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্সি ছিল না, তাহলে রাষ্ট্র এবং নীতিনির্ধারকেরা কেন মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন?? অন্যান্য ডিপ্লোমার ন্যায় ডিপ্লোমা ডাক্তার হিসেবে স্বীকৃতি ম্যাটস্ থেকে পাশ করা ডিএমএফগণ কেন পাবে না????
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সম্প্রদায় কি রাষ্ট্রের কাছ থেকে সঠিক কোন পরিচয় আশা করে না?? ডিএমএফ কোর্সের যাত্রা শুরু যখন MATS এ এডমিশনের মাধ্যমে, সেখানে একটা স্টুডেন্টের মেডিকেল ফিটনেস দেখে তাকে কোয়ালিফাইড/ডিসকোয়ালিফাইড হিসেবে ঘোষণা করেন স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল অফিসার (Govt. MATS), যিনি নিজে একজন এমবিবিএস পাশ, পরবর্তীতে একাডেমিক প্রত্যেকটা বিষয়ের লেকচারার হিসেবে যাঁরা পাঠদান করেন তাঁরা সবাই এমবিবিএস পাশ করা, হাসপাতালে প্লেসমেন্ট + ইন্টার্নির সময় যে মানুষরা হাতে ধরে ধরে শিক্ষা দেন উনারাও এমবিবিএস পাশ। যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে জন্ম নেয় একজন ডিএমএফ তাঁদের মধ্যে ৯০-৯৫% এমবিবিএস এর অবদান রয়েছে (বাকি ৫-১০% অন্য স্টাফ), যেদিন Bangladesh Medical & Dental Council, D ক্যাটাগরির রেজিষ্ট্রেশন দিয়ে দেশের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতের অধিকার দিয়ে দেন সেদিন সেই অনুমোদনকারীও একজন এমবিবিএস। যেদিন সরকারী/বেসরকারী চাকরি জীবনের শুরু সেদিনও যার আন্ডারে যোগদান করে সেদিন সেই অফিসারও একজন এমবিবিএস, আবার যেদিন একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার সময় হয় তখন যার আন্ডারে থেকে অবসরে যায় তিনিও একজন এমবিবিএস। তাহলে সেই এমবিবিএস গণ কেন ডিএমএফদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন?? ডিএমএফ রা আপনার জাতির কোন না কোন সিনিয়রের হাতে জন্মায় যেমনটা আপনি জন্মেছেন, তাহলে ডিএমএফদের এই রাষ্ট্র সম্মানিত করলে সেটার কৃতিত্বটা আপনার আবার এই ডিএমএফরা যখন কৃত্রিম ফাঁদে পড়ে সম্মানহানীর শিকার হয় তখন কষ্ট টাও আপনাদের অনুভব করার কথা। কাজেই আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে দিচ্ছি আপনি এবং আপনার রাষ্ট্র উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সম্প্রদায়কে কি নামে ডাকবেন, যেহেতু একাডেমিক কোন কোর্স মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্সির উপর শিক্ষা দেন না তাহলে পরিচয়টা কি হবে নিজেই ভেবে দেখুন এবং রাষ্ট্রকে সঠিক কিছু জানার সুযোগ দিন। মনে রাখবেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারেরা আপনাদের শত্রু না বা শত্রুতা করার যোগ্যতা কখনোই রাখে না, তারা আপনাদের সহানুভূতি চায় অবহেলা নয়।

চাকরির ক্ষেত্রেও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদবী একটা অভিশাপ কারণ বাংলাদেশের মোটামুটি সব ডিপ্লোমাধারীরা সরকারী চাকরিতে ১০ম গ্রেড দিয়ে শুরু করলেও SACMO রা ১১তম গ্রেড দিয়ে শুরু করতে হয় তাও আজীবন ব্লক পোস্ট!!! সারাজীবন একটা চেয়ার এবং একটাই পোষ্ট!!! রাষ্ট্রের এই আচরণ সম্পুর্ণ বিমাতা সূলভ কিন্তু কেন??? উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কি স্বাস্থ্য খাতের বাহিরের কেউ??? এমনকি টাইমস্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড থেকেও বাদ পড়ে যায় এই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদবী কিন্তু কেন???

বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০-৫০ হাজার ডিএমএফ বেকার, অনেকের বয়স শেষ অথচ নেই কোন সরকারী নিয়োগ! বেকারত্ব যখন একটা জীবন্ত অভিশাপ তখন বেকারেরা নিরুপায় হয়ে অনেকে পেশা পরিবর্তনের যুদ্ধে ব্যস্ত কিন্তু কেন?? নীতিনির্ধারকেরা বারবার D.M.F তথা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের নিয়োগের কথা উঠে তখনি এড়িয়ে যাচ্ছেন কিন্তু কেন?? দেশের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে যেখানে যোগ্যতাসম্পন্ন হাজার হাজার বেকার ঘরে বসে আছে সেখানে গ্রামের মানুষকে ধোঁকা দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ভুল মানুষকে দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া, যেখানে BMDC প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দানের জন্য বৈধ রেজিষ্ট্রেশন দিচ্ছে সেখানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের সাথে রাষ্ট্রের এমন আচরণ কতটা ন্যায়সঙ্গত?? এমবিবিএস দের হাতে গড়া ডিএমএফ দের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করে গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা থেকে দূরে রাখা দেখেও এমবিবিএস সম্প্রদায়ের মনে একবারও প্রশ্ন জাগলো না তাঁদের হাতে গড়া স্বাস্থ্য খাত কেন ননমেডিকেল দিয়ে চলবে?? এটা সত্যি দুঃখজনক। আমাদের দেশে MBBS ডাক্তারদের Community Clinic গুলোতে Medical Officer হিসেবে পদায়ন করার সামর্থ্য নেই তাই ডিএমএফ দের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদ সৃষ্টি এবং পদায়ন এখন সময়ের দাবী। যদি কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে বর্তমানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দের পদ থাকতো তাহলে COVID-19 এর উপসর্গের উপর ভিত্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গ্রামে বসেই সম্ভব হতো কারণ ডিএমএফ দের জন্য BMDC নির্ধারিত ড্রাগ লিস্টের মাধ্যমে যথাযথ চিকিৎসা সহ কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে এই দূর্যোগের সময় গ্রামের মানুষকে Corona Virus এর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা অনেকাংশেই সহজ হত।

সরকারী চাকরির নিয়োগবিধিতে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদকে বিলুপ্ত করে নিয়োগ বিধিমালা বের করে রাষ্ট্র কেমন ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটালো?? আমাদের দেশে হাজার হাজার বেকার D.M.F এর জন্য সরকারী চাকরি রাস্তা বন্ধ থাকায় এবং বেসরকারী চাকরির যুদ্ধে হেরে গিয়ে যখন BMDC এর রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের পাশে দাড়াতে যায় তখন কিছু সংখ্যক শিক্ষিত বিবেক এই অসহায় D.M.F দের ভূল ভাবে তুলে ধরে, যেটা সত্যি বেদনাদায়ক। রোগীর পাশে দাড়াতে গেলে একটা জিনিস আমজনতার মাথায় চলে আসে, সেটা হল আপনি কি নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবেন?? বিএমডিসি এ্যাক্ট’ ২০১০ অনুযায়ী লিখা যাবে না কিন্তু উক্ত আইন ডিএমএফ দের ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক হওয়ায় হাই কোর্টে রিটের মাধ্যমে হাই কোর্ট স্টে অর্ডার করে রেখেছে যে ডিএমএফ তথা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গণ নামের আগে এখনো পর্যন্ত ডাক্তার লিখতে পারবেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে (কোভিড-১৯) কিছু সংখ্যক সিভিল সার্জন মহোদয় এবং THO&FPO মহোদয় বিভিন্ন মেডিকেল টিমে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের নামের পূর্বে ডাক্তার লিখে অর্ডার করেছেন যেখানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করে দিয়েছেন। বিষয়টা সত্যিই প্রসংশার উর্ধে কারণ সর্বক্ষেত্রে এমন সহনশীল হলে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারগণ নিজের সবটুকু দিয়ে M.B.B.S দের পাশে থেকে সারাদেশের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যখাতে অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

COVID-19 এর ভয়াবহতা রোধ সহ সারাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি এবং বহিঃ বিভাগ, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের সেবা দানের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করছেন কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যথাযথ PPE না থাকায় অনেকে এই মহামারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। COVID-19 এর মহামারিতে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ স্বাস্থ্যকর্মী সেলিম আকন্দ (ডিএমএফ ইন্টার্ণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কাজ করেছিলেন)। বর্তমানে দেশে আরো ৫ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের কোভিড-১৯ পজিটিভ। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের সব জায়গায় PPE সরবরাহ না করে তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া কতটা মানবিক??

উল্লেখ্য যে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারগণ মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলার মানুষের পাশে থেকে সবসময় নিজেকে আত্ম মানবতার সেবায় বিলিয়ে দিচ্ছেন। দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের পদ বৃদ্ধি এবং পদায়ন এখন সময়ের দাবী কারণ দূর্যোগকালে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের ভূমিকা অনন্য।

ডিএমএফ তথা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের দুঃখের অবসান ঘটাতে বিভিন্ন সময় নীতিনির্ধারকদের স্মরণাপন্ন হয়েছে এই অভাগা জাতির প্রতিনিধিরা কিন্তু বিনিময়ে মৌখিক আশ্বাস ছাড়া বেশি কিছু এখনো কপালে জুটে নাই। COVID-19 পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকারী / বেসরকারী চাকরিজীবী, বেকার ডিএমএফ, ইন্টার্ন ডিএমএফ এবং ম্যাটস্ শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে হলেও মানুষের পাশে থাকতে প্রস্তুত। এমতাবস্থায়, ডিএমএফদের সকল সমস্যা নিরসনের জন্য বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। অসহায় জাতি তীর্থের কাকের মত চেয়ে আছে, কবে পড়বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনজর আর কবে মুক্তি পাবে এই জাতি। গ্রামের মানুষের মুখে হাঁসি ফুটিয়ে কেটে যাচ্ছে দিনের পর দিন, তাদের ঘরে আলো আসবে, মুক্তি পাবে একদিন।

লেখকঃ নাছরুল্যাহ আনাছ
ম্যাটস্, টাঙ্গাইল (৩১তম ব্যাচ)