৫ই জুলাই, ২০২০ ইং, রবিবার

ঢাকাই সিনেমার যুবরাজ মান্নার জন্মদিন আজ

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২০

| পিবিএন ডেস্ক

ঢালিউডের জনপ্রিয় প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের কালিহাতির কৈতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ঢাকাই সিনেমার দাপুটে অভিনেতা এসএম আসলাম তালুকদার মান্না।

১৯৮৪ সালে ঢাকা কলেজে পড়াকালীন নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতার দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে চিত্রনায়ক মান্নার। ক্যারিয়ারের শুরুতে একক নায়ক হওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি তার।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বাংলা সিনেমায় শীর্ষস্থান ধরেছিলেন। ‘কাশেম মালার প্রেম’ সিনেমাটি হিট হওয়ার পর চলচ্চিত্রে মান্নার ভূমিকা পাল্টে যায়। হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার যুবরাজ।

ঢাকাই সিনেমায় দৈহিকভাবে নেই মান্না। তবে আজো মান্না সবার হৃদয়ে বেঁচে আছেন। শুধু টাঙ্গাইল নয়, বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমী মানুষেরা এক নামে চেনেন মান্নাকে।

মান্না অভিনীত প্রথম সিনেমা ছিল ‘তওবা’। পরিচালক ছিলেন আজহারুল ইসলাম। তার নায়িকা ছিলেন শেলী। যার সঙ্গে পরে তিনি ঘর বেঁধেছিলেন। নিজের চেষ্টা, পরিশ্রমে একসময় মান্না বাংলা সিনেমায় হয়ে উঠেছিলেন এক নম্বর নায়ক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন।

১৯৯৭ সালে প্রযোজকের খাতায় নাম লেখান মান্না। কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র নামে তার ছিলো চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বেশকিছু সুপার-ডুপারহিট সিনেমা উপহার দেন। নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম প্রযোজিত সিনেমার নাম লুটতরাজ।

আশির দশকে সিনেমায় আসার পর অনেক নায়িকার বিপরীতে সিনেমা করেন মান্না। চম্পার সঙ্গে বেশ কয়েকটি সিনেমা করেন। মান্না ও চম্পা জুটি হয়ে অভিনয় করা কাশেম মালার প্রেম ছিলো মান্নার অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। বেদের মেয়ে জোসনার পর কাশেম মালার প্রেম ছিলো ফোক সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত।

একটা সময় মান্না ফোক ঘরানা ছেড়ে সামাজিক গল্পের নায়ক হয়ে উঠেছিলেন।  সামাজিক, অ্যাকশন, রোমান্টিক সিনেমাতে তার চাহিদা বেড়ে যায়। সমাজের বাস্তব চিত্র নিয়ে অনেক সিনেমা নির্মিত হয়েছিলো, যার নায়ক ছিলেন মান্না।
 
কাজী হায়াৎ পরিচালিত বেশ কয়েকটি সিনেমার নায়ক ছিলেন মান্না। বলতে গেলে কাজী হায়াতের সিনেমার মাধ্য ঢাকাই সিনেমার অ্যাকশন নায়কের তকমা পান মান্না। একে একে কাজী হায়াত পরিচালিত বেশকিছু সুপারহিট সিনেমা উপহার দেন। দাঙ্গা, ত্রাস, দেশ প্রেমিক, সিপাহী ছিলো মান্নার ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল কয়েকটি মিনেমা।

কাজী হায়াত পরিচালিত ‘আম্মাজান’ পরিচালিত ছবিটি ব্যাপক হিট করে। ছবিটির আম্মাজান গানটি সেসময়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। 
 
ঢালিউডে কম নায়কে এসেছিলেন তারমধ্যে কম নায়কের উপর নির্ভর করে গল্প লেখা হতো। তারমধ্যে নায়ক মান্না ছিলেন অন্যতম। যাকে কেন্দ্র করে পরিচালক গল্প ভাবতেন এবং সেভাবে সিনেমা পরিচালনা করতেন। সে সিনেমাগুলো ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়।

মান্না ঢাকাই সিনেমার সব শীর্ষ নায়িকাকে যেমন পেয়েছিলেন অভিনয় জীবনে, একইভাবে শীর্ষ সব পরিচালকদের পরিচালনায়ও মান্না অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। দর্শকদের হলমুখী করতে মান্নার ছিলো অনেক অবদান।

চিত্রনায়ক মান্না অভিনয় করেছেন চম্পা, রোজিনা, মৌসুমী, পূর্ণিমা, শাবণূরসহ এ প্রজন্মের চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসও তার সঙ্গে কাজ করেছেন। অভিনয় করেছেন কলকাতার ছবিতেও। কলকাতার রচনা ব্যানার্জি, ঋতুপর্ণাসহ সেখানকার কয়েকজন চিত্রনায়িকার সঙ্গে কাজ করেছেন। 
 
প্রায় সাড়ে তিনশ ছবির নায়ক মান্না চলচ্চিত্রে যেমন অবদান রেখেছিলেন তেমনি বাংলা চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা শুরু হলে প্রতিবাদ করেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি (মৃত্যুর সময় এই পদে ছিলেন)।

মান্না অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে,  লুটতরাজ, রাজু মাস্তান, স্বামী ছিনতাই, সন্ত্রাসী মুন্না, জীবনের গল্প, বীর সৈনিক, সত্যের বিজয়,মোগলে আজম, জীবন নিয়ে যুদ্ধ, এ দেশ কার, ভাইয়ের শত্রু ভাই, কঠিন পুরুষ, জীবন এক সংঘর্ষ, দুই বধূ এক স্বামী, ভাইয়া, সমাজকে বদলে দাও, স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ, কষ্ট, আমি জেল থেকে বলছি ইত্যাদি।

মান্না তার অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি ২০০৩ সালে ‘বীর সৈনিক’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বেশ কয়েকবার পেয়েছিলেন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং বাচসাস পুরস্কার।

চিত্রনায়ক মান্না ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

চিত্রনায়ক মান্না আজো বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে বেঁচে আছেন। বাংলা চলচ্চিত্র যতদিন থাকবেন ততদিন মান্না এদেমের সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। এ দেশের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ভালোবাসার মান্না হয়ে বেঁচে আছেন। বিশেষ দিনে আজও ভক্তরা তাকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন। শুভ জন্মদিন মান্না।

পিবিএন/এন