ঢাকা, ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
shodagor.com

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

প্রকাশিত: বুধবার, জুন ৯, ২০২১ ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ  

| পিবিএন ডেস্ক

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিদেশে অর্থপাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের তালিক প্রকাশ না করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

বুধবার (৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। কানাডার বেগমপাড়ায় যারা অর্থপাচার করে বাড়ি কিনেছে, তাদের নাম এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’

shodagor.com

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে উদ্দেশ করে বুলবুল বলেন, ‘আপনি নিজেই গত নভেম্বরে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের যে গুঞ্জন আছে, তার কিছুটা সত্যতা পেয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী টাকা পাচারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যাই বেশি। টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া ২৮টি ঘটনার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি। প্রাথমিকভাবে কিছু সত্যতা পেয়েছি। মনে করেছিলাম রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু দেখা গেল, রাজনীতিবিদ চারজন। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া কিছু ব্যবসায়ী আছেন। সুতরাং আপনার বক্তব্য অনুযায়ী সেই ২৮ জন অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা জাতির সামনে অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। আমলা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী যারাই অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি বলেন, জনগণের টাকা যারা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, ‘তাদের নামের তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। আপনার সেই বক্তব্যের পরই হাইকোর্ট, বিষয়টি নজরে এনে তথ্য জানতে চাইলেও দুদক এখন পর্যন্ত আদালতকে সেই ২৮ জন অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের তথ্য দিতে পারেনি। আমরা প্রত্যাশা করি, আপনি সেই তালিকা জাতির সামনে দ্রুত প্রকাশ করবেন।’

বুলবুল বলেন, ‘জনগণ বুঝে গেছে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কোনো দেশ প্রেমিক নাই। যারা যেভাবে পারছে এই দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে। সরকার যদি চায় এক টাকাও বিদেশে পাচার করা সম্ভব না। সরকারের মধ্যেই চোরেরা লুকিয়ে আছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে এই অর্থপাচারকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

বিক্ষোভ সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনসহ মঞ্চের অন্যান্য কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ ও চুরি এক জিনিস নয় : তথ্যমন্ত্রী
দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য চুরি এক জিনিস নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, রোজিনার ঘটনাটি অনভিপ্রেত। দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহের একটা নিয়ম আছে। দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য চুরি এক জিনিস নয়। আমরা সংগ্রহ ও চুরির মধ্যে প্রভেদটা ভুলে গিয়ে এটিকে অনেকে গুলিয়ে ফেলেছি। সরকারি বা যেকোনো অফিসে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করার জন্য যেকোনো নাগরিক আবেদন করতে পারেন। সেটি না পেলে তথ্য কমিশন আছে। তখন তথ্য কমিশনের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। তখন তথ্য কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য সংগ্রহের জন্য বলে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যদি কোনো গাফিলতি করে, অনেক সময় তথ্য কমিশন জরিমানা ছাড়াও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তথ্য কমিশন এক লাখ ২০ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করেছে। দুর্নীতিসহ যেকোনো তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার সরকার তথ্য কমিশন গঠন করেছে। সেভাবে মানুষ তথ্যও পাচ্ছে।

‘আমি মন্ত্রীর পদে থেকেও কোনো অফিসে গিয়ে বিনা অনুমতিতে কোনো গোপনীয় তথ্য নিলে আমি অপরাধী। সেক্ষেত্রে সেই অফিসের কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে যেকোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সেই তথ্য কোনো রাষ্ট্রীয় গোপন নথি হলে সেই অপরাধটা আরও বড়। প্রত্যেক মন্ত্রীকে মন্ত্রী হিসেবে শপথের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার শপথ নিতে হয়। আমি টিআইবির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। টিআইবি তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য চুরি দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলেছে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবির মতো সংগঠন থাকার দরকার আছে। এ ধরনের সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলো থাকার দরকার আছে। তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে এটিই স্বাভাবিক, আমরাও চাই সেটি। টিআইবি বিভিন্ন সময় যে গবেষণার কথা বলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গবেষণা না করে একটি রিপোর্ট তৈরি করে, সেটিকে গবেষণা বলে চালিয়ে দেয়, এটি সমীচীন নয়।’

‘যেসব দেশ থেকে টিআইবি ফান্ড পায় সেসব নিয়ে তাদের কখনো কিছু বলতে দেখিনি। বাংলাদেশ ও দরিদ্র দেশগুলোকে নিয়ে তারা প্রতিবেদন প্রকাশ করে’ বলেন ড. হাছান মাহমুদ।

করোনার টিকা নিয়ে একটি সূত্রের ওপর বাংলাদেশ নির্ভর করেনি দাবি করে তিনি বলেন, ‘যেখান থেকে টিকা পাওয়ার সম্ভবনা ছিল সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু যখন টিকা বাজারে এলো সব দেশ নিজেদের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেছে। সিরাম ইনস্টিটিউট প্রথমে এগিয়ে আসে। অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কারণে চীন থেকে টিকা এসেছে, অন্য দেশ থেকে টিকা আসছে।’

অনুষ্ঠানে এক হাজার ৩০০ ছবি নিয়ে ‘ছবির ভাষায় মহানায়ক বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী। বর্ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসরীন হোসেন লুইজার সম্পাদনায় এই অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।

এ সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল উপস্থিত ছিলেন।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – pbn.news24@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ