ঢাকা, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাবনার আটঘরিয়ায় মুক্তিযুদ্ধকালীন থানা কমান্ডার আনোয়ার হোসেন

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০ ১:৩৬ অপরাহ্ণ  

| pbn22

মহান মুক্তিযুদ্ধে পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলায় থানা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন।
মুক্তিযুদ্ধের আগে আটঘরিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এই বীর ছিলেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র। ১৯৬৮ সালের গনআন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু পর্যন্ত সকল আন্দোলন এবং সংগ্রামের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রলীগের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন ।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে উত্তাল মার্চ মাসে নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনের পর স্বাধীনতার পক্ষে একজন রাজনৈতিক যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন। নিজ গ্রামের সহপাঠী এবং বাল্যবন্ধুদের সংগঠিত করতে থাকেন।
এরপর এপ্রিল মাসের কোন এক সময় গ্রামের চারজন বন্ধুকে নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্য রওনা হন। এরপর ভারতে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে দেরাদুনে প্রশিক্ষন গ্রহন করেন এবং নয়মাসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন সহ তাঁর বর্ন্যাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আজ সংক্ষিপ্ত আকারে আলোকপাত করতে চাই।

আনোয়ার হোসেন ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার মোঃ আমিন উদ্দিন খান এবং মাতা মোছাঃ মাছিয়া খাতুন।

আনোয়ার হোসেন স্থানীয় পার খিদিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে পাবনা শহরে অবস্থিত রাধানগর মজুমদার একাডেমীতে ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর ময়মনসিংহ কৃষি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

১৯৭১ সালে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নকালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। মার্চে এলাকায় আসার পর ২৬ মার্চ পাকিস্তান আর্মীরা পাবনা শহর দখল করেন। ২৮ এবং ২৯ মার্চ পাবনায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে সমস্ত পাকিস্তানী আর্মীকে হত্যা করার পর পাবনা শহর মুক্ত করা হয়। এরপর ১০ এপ্রিল নগরবাড়ী ঘাট হয়ে পাকিস্তানী আর্মীরা পুনরায় পাবনা প্রবেশ করলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠক এবং প্রতিরোধ যুদ্ধে জড়িত সবাই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যান।

আনোয়ার হোসেন ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের কোন এক সময় তাঁর গ্রামের সহযোদ্ধা মোঃ আলী আশরাফ, সুলতান মাহমুদ এবং আবুল কাশেম মুন্সিকে নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্য রওনা হন। তাঁরা পাশ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলা হয়ে আরো কয়েকজন সহপাঠী নিয়ে লালপুর উপজেলার মধ্যে দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানায় উপস্থিত হন। সেখান থেকে পাশের নদীয়া জেলার কেচুয়াডাঙ্গায় পাবনার জন্য গঠিত ট্রানজিট ক্যাম্পে যোগ দেন।

লেখকঃ আমিরুল ইসলাম রাঙা

Share this...
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – pbn.news24@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ