ঢাকা, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
shodagor.com

পেঁয়াজের দাম বাড়ার আশা দেখছেন পাবনার কৃষকেরা

প্রকাশিত: বুধবার, এপ্রিল ৭, ২০২১ ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ  

| ডেস্ক ইডিটর, বর্ণা

মোঃ ফাহিম মোন্তাছির মামুন, পাবনা প্রতিনিধি: ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে দেশের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে দেশের পেঁয়াজ চাষীদের ক্ষতির কথা চিন্তা করে আমদানিতে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর এতে করে আগে করা আইপি দিয়ে গেলো মাসে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে হিলি স্থলবন্দরের বেশ কিছু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

আর আমদানির ফলে স্থানীয় খুচরা বাজারে কমে যায় দাম। প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে। তবে সম্প্রতি আইপি সংকটের অজুহাতে হিলি স্থলবন্দরে কমেছে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি।

আর চাহিদার তুলনায় আমদানি কমে যাওয়ায় একলাফে ৮ টাকা বেড়ে ২৭-২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। আমদানি সংকটের কথা বলে রমজানের আগে হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় খানিকটা বিপাকে পড়েছেন পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারা।

shodagor.com

এদিকে আমদানি কমে গিয়ে দাম বাড়ায় আশার আলো দেখছে পাবনার কৃষকরা। বছরজুড়ে আলোচনায় ছিল পেঁয়াজ। ফলে এবার পেঁয়াজের একটি বাড়তি চাহিদা ছিল কৃষকদের মাঝে। সেজন্য এবার আবাদে কৃষকের খরচও সবচেয়ে বেশি। এবার পাবনায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।

পেঁয়াজের ভাণ্ডার বলে পরিচিত সাঁথিয়া ও সুজানগর দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা। তবে এ ক্ষেত্রে বেড়া উপজেলাও রয়েছে সামনের সারিতে। কৃষক ও কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর সাঁথিয়া উপজেলায় ১৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল।

অথচ এবার আবাদ হয়েছে হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। আর সুজানগর উপজেলায় গত প্রায় ১৫ হাজার হলেও এবার ১৬ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। অন্যদিকে বেড়া উপজেলায় গতবার ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হলেও এবার হয়েছে ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে।

এ ছাড়া এবার কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিও ব্যাপক বেড়েছে। ফলে কৃষকদের পেঁয়াজের আবাদে এবার অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। কৃষকেরা জানান, এবার কেজিতে উৎপাদন খরচ পড়েছে ২৫ থেকে ২৮ টাকা। যাঁরা অন্যের জমি বর্গা বা ভাড়া নিয়ে চাষ করে থাকেন, তাঁদের খরচ পড়েছে এর চেয়ে আরও বেশি।

পেঁয়াজচাষিরা জানান, এসব উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে দুই পদ্ধতিতে। এর একটি হলো আগাম বা মূলকাটা ও অপরটি হলো হালি পদ্ধতি।

মূলকাটা পদ্ধতিতে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পেঁয়াজের খেত তৈরি শুরু করে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে পেঁয়াজ ঘরে তোলা হয়। এ পদ্ধতিতে অঙ্কুরিত পেঁয়াজ জমিতে রোপণ করা হয়। মূলকাটা পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না।

অন্যদিকে হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে খেত তৈরি শুরু করে মার্চ-এপ্রিলে ঘরে তোলা হয়। এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজের বীজ থেকে চারা উৎপাদনের পর সেই চারা জমিতে রোপণ করতে হয়। হালি পেঁয়াজ দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করা যায়।

দেড় মাসের বেশি সময় ধরে হালি পদ্ধতি জাতের পেঁয়াজ বাজারে উঠছে। কৃষকেরা এবার পেঁয়াজ উৎপাদন করে ভালো লাভ পাবেন বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর থেকে দাম কমতে কমতে তা কৃষকের উৎপাদনের খরচের নিচে চলে গেছে। বাজারে এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারি ১৮ থেকে ২৩ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে পেঁয়াজচাষিদের কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বেড়া পৌর এলাকার করমজা চতুরহাট ও সাঁথিয়ার বোয়াইলমারীহাটে প্রচুর নতুন পেঁয়াজের আমদানি দেখা গেছে। সাঁথিয়ার বোয়াইলমারীহাটে পেঁয়াজ নিয়ে আসা ঘুঘুদহ গ্রামের চাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যবারের চাইতে এবার পেঁয়াজের আবাদে আমাগরে খরচ ম্যালা বেশি হইছে। আশা করিছিল্যাম ভালো লাভ করার। কিন্তু এখন লাভ দূরের কথা, খরচই তুলব্যার পারত্যাছি না।’

বেড়ার ঢালারচর ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামে দেখা যায়, মোমিন মণ্ডল নামের এক কৃষক তাঁর পরিবারের লোকজন নিয়ে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছিলেন। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘একসময় লোকসান খায়া পেঁয়াজের আবাদ বাদ দিছিল্যাম। লাভের আশায় এবার আবারও পেঁয়াজের আবাদ করিছি। কিন্তু আমাগরে কপালে পেঁয়াজের লাভ নাই।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – pbn.news24@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ