১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বশেমুরবিপ্রবিতে খোলাস্থানে অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার হোস্টেলবেড

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

| সুকান্ত কুমার সরকার, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি

অযত্নে অবহেলায় খোলা স্থানে পড়ে থেকে ঘাস ও লতাগুল্মের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) স্টিল নির্মিত প্রায় ৮০০ টি হোস্টেল বেড৷ বাজারমুল্যে এসকল বেডের মূল্য ১ কোটিরও বেশি বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রমতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্র ক্রয় করায় এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকাতেই মূলত স্টিল নির্মিত এসকল বেডসহ অনেক আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে বলে জানা যায়।

সোমবার(১৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনের অংশে প্রায় ৫০০ টি এবং পেছনের অংশে প্রায় ৩০০ টি স্টিল নির্মিত বেড ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় রোদ, বৃষ্টি এবং ধূলোবালির প্রভাবে এসকল বেডে একদিকে যেমন মরিচা পড়তে শুরু করেছে অপরদিকে বেডগুলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ঝোপঝাড়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও ওয়ার্কস দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বশেমুরবিপ্রবি অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দু’বছরে এসকল বেড ক্রয় করা হয়। এ সময়ে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড ও খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে ১১ টি ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে মোট ৪৪,৮২৭,৬২৫ টাকা মূল্যে ২৬৭০ টি হোস্টেল বেড ক্রয় করা হয়েছিলো এবং প্রতিটি বেডের গড় মূল্য প্রায় ১৬,৭৮৯ টাকা।

এর মধ্যে শুধুমাত্র ২০১৯ এর ২৮ মে এবং ২৬ জুন দু’দিনেই ১৯৪৫ টি বেডের অর্ডার প্রদান করা হয়েছিলো। তবে এই সময়ে নতুনভাবে ৪০০ আসনবিশিষ্ট মাত্র দুটি হল নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ এর জানুয়ারি থেকে ২০১৯ এর জুলাই পর্যন্ত পূর্বনির্মিত হলগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবস হল থেকে ২০টি বেডের চাহিদা জানানো হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বেড ক্রয় করায় এখন সরকারি টাকায় কেনা প্রায় ৮০০ বেড নষ্ট হচ্ছে যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৩,৪৩১,২০০ টাকা।

‘নতুন নির্মিত হলগুলোর জন্য ১০০০-১৫০০টি বেড যথেষ্ট থাকলেও প্রয়োজনের অনেক বেশি সংখ্যক পণ্য অর্ডার করায় পড়ে থেকে নস্ট হচ্ছে আসবাবগুলো৷

এ বিষয়ে ১৯৪৫ টি বেডের ওয়ার্ক অর্ডার প্রদানকারী প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. এম. এ. সাত্তার ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না’ উল্লেখ করে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের নির্দেশেই এসকল ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করেছিলেন বলে জানান। এছাড়া ওয়ার্ক অর্ডারের জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদানেরও নির্দেশ দেয়া হলে অগ্রিম অর্থ প্রদান করতে রাজি না হয়ে প্রকল্প পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করার কথা বলেন তিনি।

এদিকে আসবাবপত্র সংরক্ষণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরের দায়িত্বে থাকা মোঃ সাইফুল্লাহ ‘স্টোরের জায়গা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনকে গত দুবছরে প্রায় পাঁচবার চিঠি প্রদান করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ব্যবস্থা গ্রহন করে শুধুমাত্র কাঠের বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিলগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলেও এখনও স্টোরের জায়গা পর্যাপ্ত না হওয়ায় সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে স্টোরের জায়গা বৃদ্ধি পেলেইে অবশিষ্ট আসবাবপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

দীর্ঘদিন অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা এসকল আসবাবপত্রের বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. এ.কিউ.এম মাহবুব জানান, ‘এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোপার্টি, জনগণের প্রোপার্টি, দেশের প্রোপার্টি। এগুলো এভাবে নষ্ট হতে দেখে আমি অত্যন্ত মনঃক্ষুণ্ন। কিন্তু এ বিষয়ে আমি একা কোনো সিদ্ধান্ত নিবো না। রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং এর মাধ্যমে এসকল আসবাবপত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।