২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, ১০০ জনে ৫৮ করোনা পজিটিভ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

| পিবিএন রিপোর্ট

আনোয়ারুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: করোনা পরীক্ষার পজিটিভ কিংবা নেগেটিভ রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাত যখন টাল মাটাল, এমন সময়ে দেশের অন্যতম প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের করোনা টেস্টের ফলাফল নিয়ে চরম অবিশ্বাস ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। দেখা দিয়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মরত শত শত বাংলাদেশি শ্রমিকের বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কাও।

নমুনা প্রদানকারী প্রথম ১০০ জনের একজন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ফোরম্যান মন্নাফ ও শ্রমিক মশিয়ার বলেন, ৪৫ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে ৫বার নমুনা দিয়ে তারা নেগেটিভ ছাড়পত্র পেয়েছেন। কর্তৃপক্ষের ঘোষণা
অনুযায়ী আমাদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা।

কিন্তু তারা আমাদের হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে সরাসরি বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। নেগেটিভ শনাক্ত আরেক শ্রমিক আব্দুল মোতালেব বলেন, ৪৫ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালে আমারসহ অন্যান্যদের ৫ বার নমুনা নেওয়া হয়েছে। ৫ বারই করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। তারপরও নিয়োগ পাইনি। পরপর দুবার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হলেই ছাড়পত্র পাওয়ার কথা কিন্তু ৫ বার নমুনা সংগ্রহ শ্রমিকদের হয়রানির পর্যায়ে পড়ে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি প্রকল্প বাস্তবায়ন, উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা দায়িত্ব পাওয়া চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়াম ২০০৫ সালে এ খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে চীনা শ্রমিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি শ্রমিকরাও চুক্তিভিত্তিক খনির কয়লা উত্তোলন কাজে যোগ দেন। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ১ হাজার ৪০ জন।

এ ব্যাপারে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ৪০০ বাংলাদেশি শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপ সঠিক প্রমাণিত হয়নি।

তাই প্রতি দুজন শ্রমিককে এটাচ্‌ট বাথরুম সংবলিত কক্ষে রেখে কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে পূর্বের ভুলত্রুটি পুনরাবৃত্তি না হয়। ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় যে ফলাফল এসেছে তা সঠিকভাবে কোয়ারেন্টাইনের নিয়মকানুন না মানার ফল। এর সবটাই চীনা করও্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হয়েছে। বর্তমানে ২৭০ জন চীনা শ্রমিক কাজ করছেন। ১৩০৭ নম্বর ফেজ থেকে ট্রায়াল পর্যায়ে উৎপাদন চলায় এখন প্রতিদিন ৮৩৫ মে.টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব ।