ঢাকা, ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
shodagor.com

ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর ছড়াতেই পাবনায় কমলো পেঁয়াজের দাম।

প্রকাশিত: রবিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২১ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ  

| এসকে

মোঃ ফাহিম মোন্তাছির মামুন,পাবনা জেলা প্রতিনিধি:

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর প্রচার হতেই লাফিয়ে লাফিয়ে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে সারা দেশে।প্রায় সাড়ে তিনমাস পর গত ০২ জানুয়ারি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হতেই পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের বাজারে ধস দেখা দিয়েছে।

সপ্তাহ দুই আগেই নতুন দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতিকেজি ৪০ টাকার কাছাকাছি (পাইকারি)। গত ২ জানুয়ারি থেকেই সাঁথিয়ার বিভিন্ন বাজারে পাইকারি প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২২ থেকে ২৭ টাকায়।এ অবস্থায় সাঁথিয়ার পেঁয়াজচাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

shodagor.com

এমন দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে তাঁদের লোকসান হচ্ছে ব্যাপক। ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বাড়লে চাষিদের লোকসানের পাল্লা আরও ভারি হবে বলে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।এতে উপজেলার পেঁয়াজচাষিরা আতঙ্কে দিন পার করছেন।

চাষিরা জানান, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। এ অবস্থায় পেঁয়াজের ভাণ্ডার বলে খ্যাত পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পেঁয়াজচাষিদের ব্যস্ততার শেষ নেই।

গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় উপজেলায় এবার প্রচুর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হচ্ছে। পেঁয়াজচাষিরা ১২০০ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজবীজের দানা এবার ৬ হাজার টাকায় কিনেছেন। এতে উৎপাদন খরচ ব্যাপক বাড়লেও তাঁরা পেঁয়াজের আবাদ থেকে পিছিয়ে যাননি।

কৃষকদের দাবি, বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হওয়ায় এবার দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজেই অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হবে।কিন্তু এমন অবস্থার মধ্যেও শুরু হয়েছে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি। আমদানি শুরু হতেই পেঁয়াজের দামে ধস দেখা দিয়েছে।

এতে কৃষকদের মোটা অংকের লোকসান হওয়ায় পেঁয়াজ চাষ থেকে তাঁরা আবারও পিছিয়ে যাবেন। তাই ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবি করে আসছেন কৃষকেরা।

উপজেলার করমজা ইউনিয়নের বাঐটোলা গ্রামের রহমান আলী জানান, সাঁথিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে দুই পদ্ধতিতে। এর একটি হলো আগাম বা মূলকাটা ও অপরটি হলো হালি মূলকাটা পদ্ধতিতে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পেঁয়াজের আবাদ করে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজ ঘরে তোলা হয়।

এই পদ্ধতিতে অঙ্কুরিত পেঁয়াজ জমিতে রোপণ করা হয়। মূলকাটা পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না।

অন্যদিকে হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজের আবাদ করে মার্চ-এপ্রিলে পেঁয়াজ ঘরে তোলা হয়। এই পদ্ধতিতে পেঁয়াজের চারা জমিতে রোপণ করা হয়। হালি পেঁয়াজ দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করা যায় বলেও তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল। এবার ১৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও অন্তত ৪০০ হেক্টর বেশি জমিতে এবার পেঁয়াজের আবাদ হতে যাচ্ছে বলে উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানিয়েছে।

কৃষক ও উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পেঁয়াজের আবাদে এর আগে কৃষকেরা বছরের পর বছর লোকসান দিয়েছেন। কিন্তু গতবার তাঁরা লাভের মুখ দেখেন।

গতবারের মতো লাভ হতে পারে ভেবে কৃষকেরা এবার পেঁয়াজের আবাদে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষকদেরকে এবার পেঁয়াজবীজের দানা পাঁচ-ছয়গুণ বেশি দামে কিনতে হয়েছে।

শ্রমিকের মজুরি, সেচ খরচসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ এবার ব্যাপক বেড়েছে। এর পরেও এবার প্রচুর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

এদিকে মাসখানেক হলো বাজারে আগাম বা মূলকাটা জাতের নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। নতুন পেঁয়াজ ওঠায় এমনিতেই পেঁয়াজের দাম বেশ কমেছে।

এরই মধ্যে গত ২৮ ডিসেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এতে আরও বেশি কমতে শুরু করে পেঁয়াজের দাম।

গতকাল শনিবার (০৯ জানুয়ারি) থেকে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুরু হতেই পেঁয়াজের স্থানীয় বাজারে রীতিমত ধস দেখা দেয়।

চাষিরা জানান, তাঁরা হিসাব করে দেখেছেন এবার প্রতিকেজি পেঁয়াজে উৎপাদন খরচ পড়েছে ৩৫ টাকার কাছাকাছি।

অথচ ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির খবরে গতকাল সাঁথিয়ার বিভিন্ন হাটে পাইকারি প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ২২ থেকে ২৫ টাকায় নেমে যায়। ফলে এখনই চাষিদের প্রতিকেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা করে লোকসান দিতে হচ্ছে।

গতকাল সরেজমিনে উপজেলার করমজা চতুরহাটে গিয়ে প্রচুর নতুন পেঁয়াজের আমদানি দেখা গেছে।

হাটে পেঁয়াজ নিয়ে আসা বোয়ালমারি গ্রামের রহিম উদ্দিন বলেন, ‘সমিতি থ্যা কিস্তি তুলে চল্লিশ টাকা কেজি দরে (মূলকাটা) পেঁয়াজের বীজ কিনে তিন বিঘা পেঁয়াজ বুনেছিলাম সেই পেঁয়াজ এহন ২৫ টাকা করে বেচতে হয়। তাছাড়াও চাষ, সার, শ্রমিক খরচ তো আছেই ভারতের পেঁয়াজ আইস্যা আমাগরে সর্বনাশ কইর‌্যা দিল।’

করমজা চতুরহাটের পেঁয়াজের আড়ৎদার মুন্নাফ আলী বলেন, ‘ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির খবরে এক সপতাহের ব্যবধানে ১৬ শ টাকা মণ দরের পেঁয়াজ ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায় নেমে গেছে।’

সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হচ্ছে। পেঁয়াজের ফলনও হয়েছে খুব ভালো। এবার প্রতি বিঘায় কৃষকেরা ৬০ থেকে ৬৫ মণ পেঁয়াজ পাচ্ছেন।’

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – [email protected] ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ