ঢাকা, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
shodagor.com

ভুয়া কাবিননামায় একের পর এক বিয়ে তথ্য সেবা কর্মচারীর

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, মে ৪, ২০২১ ১:৩০ অপরাহ্ণ  

| পিবিএন ডেস্ক

বিয়ে নিয়েও প্রতারণার ঘটনা প্রায় ঘটতে দেখা যায়। অনেক সময় দুজন ছেলেমেয়ে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেন। বিয়ের কথা পরিবারের কাউকে জানান না। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ছেলে মেয়ের গোপন কথা গুলো বেড়িয়ে আসে। এবং কোন কারণে বিয়ের সম্পর্ক ভেঙে গেলে, কোন পক্ষ ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে দাবী করতে থাকে।

আবার এমনও দেখা যায় আদৌ বিয়ে হয়নি অথচ বিয়ে হয়েছে, এ কথা বলে মিথ্যা প্রমাণ দেখিয়ে স্বামী স্ত্রীর মতো সংসার করতে থাকেন। মেয়েটি ভালো না লাগলে কিংবা মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে ছেলেটি বিয়ে অস্বীকার করতে থাকে। এমন একটি বাস্তব ঘটনা পঞ্চগড় জেলা তেঁতুলিয়া উপজেলা ৫ নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে ঘটেছে।

গত ৪ মাস আগে ওই উপজেলার একই ইউনিয়নের হারাদিঘী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের প্রথম মেয়ে মোছা:রুমা আক্তার (১৮) বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদে আসে অনলাইন ন্যাশনাল আইডি কার্ড তুলার জন্য। তথ্যসেবা কর্মচারী মো: সুয়েল রানা (২৫) ভুলিয়ে-ভালিয়ে কোন প্রকার মেয়েটির কাছ থেকে মোবাইল নাম্বারটি নেন, সেই থেকে অতিরিক্ত মোবাইলে ডির্স্টাব করার ফলে, এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুইজনের মাঝে। কিছু দিন যেতে না যেতেই মেয়েটি বায়না ধরে বিয়ে করার জন্য। বাধ্য হয়ে একই ইউনিয়নের শিলাইকুঠি গ্রামের মো:আকবর আলীর ছেলে মো: সুয়েল রানা মেয়েটিকে ভুয়া কাবিননামায় বিয়ে করে।

shodagor.com

বিয়ের ৩ মাস পর জানতে পারে মেয়েটি তার বউ বাচ্চা রয়েছে। মিথ্যা প্রলোভন, নিজে সরকারী চাকুরীজিবী বাবা প্রভাবশালী কথা বলে রুমা নামের মেয়েটি বিয়ে করে। ২ মাস পঞ্চগড় সদর হ্যাপি সড়ক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। সব কিছু জানার পর মেয়েটি সিদ্ধান্ত নেয় আইন আনুগ ব্যবস্থা নিবে তার বিরুদ্ধে। মেয়ের বাবার আর্থিক অনাটন না থাকায় এবং প্রতারক সুয়েল রানার কিছু কুচক্রী মহল গোপনে টাকা খেয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে সোমবার (৩ মে) রাত ৮ ঘটিকার সময়ে বার্তা বাজারের নিজস্ব প্রতিনিধি ওই মেয়ের বাসায় যায়।

মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি অনলাইন ন্যাশনাল আইডি কার্ড তুলার জন্য আজ থেকে গত ৪ মাস আগে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্যসেবায় যায়, বিভিন্ন কথা বলে আমার মোবাইল নাম্বারটি তিনি নেয়। সেই থেকে আমাকে প্রতিদিন ডির্স্টাব করতে থাকে। নিজেকে সরকারী চাকুরিজীবি, বাবা ভাই প্রভাবশালী, পরিষদের সকল ক্ষমতাধর ব্যক্তি শুভাকাঙ্ক্ষী বলে দাবী করেন। এতে আমি তার প্রেমে মগ্ন হই। সম্পর্ক কিছু দিনের মধ্যে প্রতারক সুয়েল রানা দৈহিক মিলন করতে চায়। মেয়েটি আপত্তি জানালে, বিয়ের পরে সমস্ত কিছু দিবে বলে জানান।

কয়দিন পর প্রতারক সুয়েল রানা পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারী কলেজের সামনে নিজের তৈরি করা ভুয়া কাবিননামায় স্বাক্ষর করে নেন, বিনা স্বাক্ষীতে। মেয়েটিকে বুঝান আজ থেকে তুমি আমার স্ত্রী। এতে মেয়েটি বুঝে তাদের মত করে ভাড়াটে বাসা নেন। তখন থেকে ২ মাস সংসার জীবন করে। মেয়েটি নিজের ভুল বুঝতে পারায় সিদ্ধান্ত নেন তার কাছ থেকে সরে দাড়াবে। প্রতারকটি নানান ভাবে মেয়েটিকে হুমকি দেন, এবং তার কিছু কুচক্রী মহল মেয়ের বাবাকে নানান ভাবে বুদ্ধি পরামর্শ দেন, বিষয়টি গোপন রাখার জন্য।

কুচক্রী মহল গুলো বলেন, তার বাবা ভাই অনেক প্রভাবশালী তাদের বিরুদ্ধে আপনারা কুল পাবেন না। এই ভয়ে মেয়েটির বাবা আইন আনুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

মেয়েটির বাবা মো: রাজ্জাককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে নানান কথা বলে প্রতারক সুয়েল রানা। আমি তার আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি। কিন্তু আমি আর্থিক অনাটনের কারণে মামলা মোকদ্দমা যায়তে চাচ্ছি না। এবং আমি আমার পরিবারের পড়ামর্শ ছাড়া কোন কাজ করতে পারব না।

মেয়ের বাবা আরও বলেন, প্রতারক সুয়েল রানা বাকি জীবনে যেন ইউনিয়ন তথ্যসেবায় কাজ করতে না পারে এটা স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আমার দাবী।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মেয়েটি অনেক ভালো ছেলেটি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বউ বাচ্চার গোপন রেখে বিয়ের করার কথা শুনলাম, আমরা তার কঠিন শাস্তি দাবী করছি। প্রতারক সুয়েল রানার বিষয়ে গোপনে তথ্য নিলে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসে। গত ২ বছর আগে শালবাহান ইউনিয়নের গড়িয়াগছ এলাকায় নাম বলতে অনিচ্ছুক একই প্রতারণায় বউ বাচ্চা গোপন রেখে ভুয়া কাবিননামায় ওই মেয়েটি বিয়ে করছিল। বাবার একমাত্র মেয়ে হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেন। এবং অন্য খানে বিয়ে দেন। এভাবে একের পর এক প্রতারক সুয়েল রানা অসহায় পরিবারের মেয়েদের কে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে আসতেছে।

এ বিষয়ে ৫ নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি বাদশা সোলায়মান এর সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, প্রতারক সুয়েল তথ্য সেবা আসা নানান মেয়েদেরকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসতেছেন এবং ভাবে গরীব অসহায় মেয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে, নানান প্রলোভন দেখিয়ে নিজের তৈরি করা ভুয়া কাবিননামায় বিয়ে করে আসতেছে। আমি তার দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি চাই।

কালদাস পাড়া গ্রামের শকিমউদ্দীনের ছেলে, ইউপি আওয়ামী যুগ্ম আহবায়ক মো: তহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি জানি প্রতারক সুয়েলের কিছু কুচক্রী মহল মেয়ের বাবাকে নানান কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধা করা হচ্ছে। আমরা তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।

৬ নং ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি মো: ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি নেক্কারজনক তার শাস্তি অব্যশই হওয়া দরকার।

তেঁতুলিয়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আবু ছায়েম মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে এখনো এই ধরনের অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – pbn.news24@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ