১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

মানিকগঞ্জ সদর হাসপালের নার্স শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

| পিবিএন ডেস্ক

মোঃ নুরুজ্জামান, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহীনুর রহমান শাহীনের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একের পর এক বেরিয়ে আসছে নানারকম অপকর্মের তথ্য। জানাগেছে, হাসপাতালের নার্স, ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ড বয়, রোগী, রোগীর স্বজন থেকে চিকিৎসক, সবাইকেই লাঞ্চিত হতে হয়েছে তার হাতে।

এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আপোস-মীমাংসাও করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়েছে অঙ্গীরকার নামা। তবুও শাহীনের অপকর্ম বন্ধ করতে পারেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিতে পারেননি বিভাগীয় ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ২৫ মে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সাইফুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে শাহীনুর রহমান। ওই দিনই বিষয়টি নিয়ে দরবারে বসেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসময় শাহীন তার কৃতকর্মের দ্বায় স্বীকার করে মাফ চান। ভবিষ্যতে এরকম কোন কিছু করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

আরো জানাগেছে, এর আগেও একাধিকবার স্টাফদের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অঙ্গীকার নামায় উল্লেখ করেন। সে সময় অঙ্গীকারনামায় স্বাকর দেন হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান, ডা. রাজিব বিশ্বাস, নার্স সুপারভাইজার আনিছুর রহমান ভূইয়া, নার্স পারভীন আক্তার ও মোতালেবসহ অনেকেই।

অঙ্গীকার নামা দিলেও থেমে থাকেনি তার অপকর্ম। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি শাহীনুরের হাতে লাঞ্চিত হতে হয় ফার্মাসিস্ট সেলিমুল হককে। নার্স হোসনে আরা, পারভীন, মোতালেব, ফার্মাসিস্ট লুৎফর ও পৌরসভার টিকাদানকারী শিউলীকেও লাঞ্চিত করেন শাহীন।

লাঞ্চিত থেকে রেহাই পাননি হয় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আরশ্বাদ উল্লাহ।

নার্স সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ছিলাম। গত বছরের ২৫ মে ট্রলিম্যানকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সে সময় শাহীন এসে জানায়, সে ট্রলিম্যানকে জরুরি বিভাগ থেকে বের করে দিয়েছে। আমি প্রতিবাদ করি, আমি ইনচার্জ, আমার অনুমতি ছাড়া আপনি তাকে বের করে দিলে কেন? তখন সে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।”

নার্স হোসনে আরা বলেন, “নার্স সুপারভাইজার আনিছুর রহমান ভূইয়ার নির্দেশ অমান্য করায় আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। এজন্য সে আমাকেসহ সকল নার্সকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেবে বলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নার্স শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, আমি সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, এজন্য অনেক সময় অনেকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তবে সেসব তুচ্ছ ঘটনা। তাৎণিকভাবে সেসব ঘটনার মিমাংসা হয়ে গেছে।

নার্স শাহীনের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরশ্বাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, এর আগেও নার্স শাহীনুর রহমান শাহীন অনেককেই লাঞ্চিত করেছে। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপকে চিঠি দিয়েছি। নার্স শাহীনুর রহমান বদমেজাজী বলেও উল্লেখ করেন ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ।