ঢাকা, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
shodagor.com

লায়লাতুল ক্বদর ফযীলত এবং আমল

প্রকাশিত: সোমবার, মে ৩, ২০২১ ৪:৪৫ অপরাহ্ণ  

| পিবিএন ডেস্ক

আশিক চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

লায়লাতুল ক্বদর ফযীলত :

(ক) এটি হাযার মাস অপেক্ষা উত্তম। আল্লাহ বলেন,إِنَّآ أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ- وَمَآ أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ- لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ- تَنَزَّلُ الْمَلَآئِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ- سَلاَمٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ- ‘আমরা একে নাযিল করেছি ক্বদরের রাত্রিতে’ (১)। ‘তুমি কি জানো ক্বদরের রাত্রি কি?’ (২)। ‘ক্বদরের রাত্রি হাযার মাস অপেক্ষা উত্তম’ (৩)। ‘এ রাতে অবতরণ করে ফেরেশতাগণ এবং রূহ, তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে বিভিন্ন নির্দেশনা সহকারে’ (৪)। ‘এ রাতে কেবলই শান্তি বর্ষণ। যা চলতে থাকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত’ (ক্বদর ৯৭/১-৫)।

shodagor.com

(খ) এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বস্ত্ত সমূহ স্থিরীকৃত হয়। আল্লাহ বলেন,إِنَّآ أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ- فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ- أَمْرًا مِّنْ عِنْدِنَآ إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ- رَحْمَةً مِّنْ رَّبِّكَ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ- ‘আমরা এটি নাযিল করেছি এক বরকতময় রজনীতে। নিশ্চয় আমরা সতর্ককারী’ (৩)। ‘এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়’- (৪)। ‘আমাদের পক্ষ হ’তে আদেশক্রমে। আমরাই তো প্রেরণ করে থাকি’ (৫)। ‘যা তোমার পালনকর্তার পক্ষ হ’তে (বান্দাদের প্রতি) রহমত স্বরূপ। তিনিই তো সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ’ (দুখান ৪৪/৩-৬)। অর্থাৎ ঐসব বিষয় ফেরেশতাদের নিকট অর্পণ করা হয়, যা ইতিপূর্বে তাক্বদীরে লিপিবদ্ধ ছিল। সেখান থেকে প্রতি লায়লাতুল ক্বদরে আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের জন্য তার এক বছরের কর্মকান্ড স্বীয় প্রজ্ঞা অনুযায়ী পৃথক করে দেন (সা‘দী, ক্বাসেমী)।

সময়কাল :

২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ মোট পাঁচটি বেজোড় রাত। হযরত আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَّمَضَانَ- ‘তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলিতে ক্বদরের রাত্রি তালাশ কর’।( বুখারী হা ২০১৭,মুসলিম ১১৬৯)

ক্বদরের রাত্রি কোনটি??

লায়লাতুল ক্বদর কোন তারিখে হয়ে থাকে, বিভিন্ন ছহীহ হাদীছে এ সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। যার আলোকে বিদ্বানগণ এক একটির উপরে যোর দিয়েছেন। যেমন উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) ২৭শে রামাযানের রাত্রির ব্যাপারে দৃঢ় মত প্রকাশ করে বলেছেন, রাসূল (ছাঃ) আমাদের খবর দিয়েছেন যে,أَنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ يَوْمَئِذٍ لاَّ شُعَاعَ لَهَا- ‘ঐদিন সূর্য উঠবে, কিন্তু আলোকচ্ছটা থাকবে না’।(মূসলিম ৭৬২,তিরমিযি ৩৩৫১)এর উপরে ভিত্তি করে অনেক বিদ্বান ২৭-এর রাত্রিকে লায়লাতুল ক্বদর বলে নির্দিষ্ট করেছেন। অথচ ওবাদাহ বিন ছামেত (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে এর ব্যাখ্যা এসেছে। এ বিষয়ে আল্লাহ পাক ভালো জানেন।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে লায়লাতুল ক্বদর সম্পর্কে খবর দেবার জন্য বের হ’লেন। এমন সময় দু’জন মুসলিম ঝগড়ায় লিপ্ত হ’ল। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে ক্বদরের রাত্রি সম্পর্কে খবর দেবার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু অমুক অমুক দু’জন মুসলিম ঝগড়ায় লিপ্ত হ’ল। ফলে সেটি আমার থেকে উঠিয়ে নেওয়া হ’ল (অর্থাৎ তারিখ ও সময়টি আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হ’ল)। সম্ভবতঃ এটা তোমাদের জন্য ভাল হ’ল। অতএব তোমরা এটা অনুসন্ধান কর ২৯, ২৭ ও ২৫শের রাতে’।(বুখারি ২০২৩,মিশকাত ২০৯৫)] ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, হাদীছের ব্যাখ্যা এটাই হ’তে পারে যে, তিনি বের হয়েছিলেন কেবল ঐ বছরের শবে ক্বদর নির্দিষ্ট করে বলার জন্য’ (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা ক্বদর ৯৭/১ আয়াত)।

এতদ্ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সমস্ত হাদীছ একত্রিত করলে এ রাত্রিকে নির্দিষ্ট করার কোন উপায় নেই। যদি ২৭-এর রাত্রি নির্দিষ্ট হ’ত, তাহ’লে রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণ কেবল এ রাতেই ইবাদতে রত থাকতেন। কিন্তু তাঁদের আমল ছিল এর বিপরীত। তারা শেষ দশকে ই‘তিকাফে ও ইবাদতে অতিবাহিত করতেন। কিন্তু আমরা কেবল ২৭-এর রাত্রিকেই শবেক্বদর ধরে নিয়েছি এবং এ রাত্রিকে ইবাদতের জন্য এমনকি ওমরাহর জন্য খাছ করে নিয়েছি। অথচ ৮ম হিজরীর ১৭ই রামাযান মক্কা বিজয়ের পর রাসূল (ছাঃ) ১৯ দিন সেখানে অতিবাহিত করেন। কিন্তু তিনি বা তাঁর সঙ্গী ছাহাবীগণের কেউ ২৭শে রামাযানে বিশেষভাবে লায়লাতুল ক্বদর পালন করেননি বা ওমরাহ করেননি। বরং এভাবে দিন নির্ধারণ বিদ‘আত কিনা সেটা আল্লাহ পাক ভালো জানেন।

ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, আল্লাহ পাক এ রাত্রিকে গোপন রেখেছেন তার তাৎপর্য এই যে, বান্দা যেন সারা রামাযান ইবাদতে কাটায় এবং শেষ দশকে তার প্রচেষ্টা যোরদার করে’ (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা ক্বদর ৯৭/১ আয়াত)

সুতরাং দিন নির্দিষ্ট না করে শেষ দশকের বিজোড় রাত্রি (২১,২৩,২৫,২৭,২৯)তালাশ করব এবং বেশি ইবাদাত করতে চাইলে দশ রাত্রী জাগরণ ও উত্তম হবে। আল্লাহ আমাদের ইবাদাত কবুল করুক ।আমিন

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – pbn.news24@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ