১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং, সোমবার

স্মরণীয় একটা মুহূর্তে ছিল সেদিন!

আপডেট: জুলাই ১, ২০২০

| ফিচার-মতামত

সেই দিন ছিল ভার্সিটির আমার প্রথম দিন।অবাক হয়েছিলাম সাথে কান্নায় পাচ্ছিল। যা বলার মতো নয়।কারন এতদিন একটা মায়াজালে আবদ্ধ ছিলাম আমি।সেই মায়াজাল ছেড়ে আমাকে বের হতে হচ্ছে। যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। বাবা-মা জব করেন।জবের কারনে খুব একটা বেশি সময় কাটেনি তাদের সাথে আমার ।তবুও কেন জানি সেইদিন অনেক কান্না পাচ্ছিল আমার!

মনটা বার বার বলছিল যে, ‘না গেলে হয় না’।মনে পড়ে যখন আমাকে রেখে আসবে তখন ভাই কে খুব ইমোশনাল ভাবে বললাম,’আমার জন্য কষ্ট পাস না’! যেহেতু আমাকে ছাড়া সে একদম একা থাকবে বাসায়।

সে মোটেও আবাক হয়নি।বরং সে বলল’ আজ তোমার জন্য আমার স্কুল মিস হল’!

অবাক আমি হয়নি।কারন সেদিন হয়তো আমিও একজন রোবট মানব হয়েছিলাম। আমি চাচ্ছিলাম না যে বাবা-মা আমার সাথে কথা বলুক।কারন সেইদিন আমি এত ভয়ে এ ছিলাম যে, কিছু বলেই কেঁদে ফেলবো।

অতঃপর বাবা-মার আমাকে জ্ঞান দেয়া শুরু করল।আর আমি! সারা জীবনে ফ্রেন্ডদের সাথে কাটানো সেই হাসির কথা গুলো মনে করেও পারছিলাম না আমার ভেতর শক্তিটাকে জাগাতে।
আমি জানিনা! আমার আম্মু বা আমার আব্বু মুখটা তখন কেমন ছিল!

কারণ আমি তাদের দিকে তাকাতে পারি নাই।তারপর তারা যখন আমাকে রেখে চলে গেল,আমি তারাতারি কোনো রকম দোতলায় এসে সিঁড়িতে বসে হাউমাউ করে কান্না শুরু করছি। আমার শুধু মনে হচ্ছিলো ড্রাইভার মামা কে বলি,’ মা আমাকে নিয়ে যাও’!

কিন্তু না, তা কি করে বলবো! বাবা আমাকে শর্ত দিয়েছিল বাউয়েট এ পড়লে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিবেন তিনি। যাই হোক আমি কেঁদেই যাচ্ছি প্রায় পাঁচ মিনিটর বেশী সময়।

তারপর আমি যা দেখলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।কান্নাকাটির পর জীবনের প্রথম এবং শেষ এতো লজ্জা পেয়েছি, কান্না শেষে যখন সিঁড়ি দিয়ে উঠবো তখন উপরে চোখ যায় এবং তাকিয়ে দেখি সিসি ক্যামেরা!

হায় হায়! এতক্ষন যা করেছি সবকিছু তাহলে রেকর্ড হলো! সেইদিনটার কথা আজই মনে পড়লে লজ্জা ও হাসি পায়।

লেখাঃ জেরিন তাসনিম খান
শিক্ষার্থী,
বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনলোজি